দলে চরম বিরোধ চললেও বিরোধীদেরও পাশে রেখেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও তার প্রায় সকল অনুসারীকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে রেখেছেন।

গত বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। বাদ পড়েছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। শুক্রবার তাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আগামী ১৬ এপ্রিল জাপার জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৭ জানুয়ারি প্রস্তুতি কমিটির আহ্বয়ক পদে এরশাদের ভাই জিএম কাদের ও সদস্য সচিব পদে এবিএম রহুল আমিন হাওলাদারের নাম ঘোষণা করেন। একই দিনে জিএম কাদেরকে জাপার কো-চেয়ারম্যান করেন। রওশনপন্থিরা এসব নিয়োগের বিরোধী।

জিএম কাদেরকে শুধু কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে নয়, প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকেও বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছেন রওশনপন্থিরা। এ ইস্যুতে গত তিন সপ্তাহ ধরে জাপার বিরোধ চরমে।

দাবি আদায়ে রওশনপন্থিরা এরশাদের সকল কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এরশাদ তাদের প্রায় সবাইকেই রেখেছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে। রওশন এরশাদ কমিটির প্রথম সদস্য।

রওশন শিবিরের প্রধান মুখ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম দ্বিতীয় সদস্য। গত তিন সপ্তাহে এরশাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে বক্তব্য দিয়েছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম।

জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ করার পর দিন রওশনপন্থিরা বৈঠক করে এরশাদকে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে 'অব্যাহতি' দেন। রওশনকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

এ ঘোষণার কারণে মহাসচিবের পদ হারান জিয়াউদ্দিন বাবলু। তাকেও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে রেখেছেন এরশাদ।

এরশাদ বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী নেতা জাপার দুই প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও মুজিবুল হক চুন্নুও কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

এরশাদ বারবার মন্ত্রিসভা ছাড়ার কথা বললেও, এ দুই নেতা বরাবরই এ সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। এরশাদের বিপরীতে অবস্থান নিলেও তাদেরও কমিটিতে উপরের সারিতে রাখা হয়েছে।

এরশাদ ও রওশনসহ জাপার এমপির সংখ্যা ৪০ জন। তারা দু'জন বাদে ৩৮ এমপির ২৮ জনকেই কমিটিতে রাখা হয়েছে। তাদের অন্তত ২৪ জনই রওশপন্থি।

জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। যাদের এরশাদ বিরোধী বলা হচ্ছে, তারাও দলের নেতা। তাদেরও দলে অবদান আছে। তাই সবাইকে রাখা হয়েছে। জাপায় বিরোধ নেই।

এসএইচ