শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকার একটি মানহানি মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মামলাটি দায়ের করেন শহীদ শেখ জামাল জাতীয় স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিক বিল্লাহ।

নড়াইল সদর আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ জাকারীয়্যা মামলাটির বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতাকে (ওসি) ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকায় এক আলোচনা সভায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বলেন, ‘তারা নির্বোধের মতো মারা গেল। আমাদের মত নির্বোধেরা প্রতিদিন শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে ফুল দেয়। না গেলে আবার পাপ হয়। উনারা যদি এতো বুদ্ধিবান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত তারা নিজের ঘরে থাকে কী করে? একটু বলেন তো।’

তিনি আরো বলেন, ‘যুদ্ধপরাধীর বিচারটা করছেন ভালো। এরা (বুদ্ধিজীবী) যে শেষদিন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বেতন ভাতা খাইছে নির্বোধের মতো।’

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এ বক্তব্যে মর্মাহত হয়ে শেখ আশিক বিল্লাহ এ মামলাটি দায়ের করেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিএনপি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আদালতে এক কোটি টাকার মানহানি মামলা হয়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন গয়েশ্বর চন্দ্রের মামলার বাদী শেখ আশিক বিল্লাহ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ডিসেম্বর একই আদালতে নড়াইলের নড়াগাতি থানার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে আরো একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মধ্যে জুডিশিয়াল তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

এমকে