নির্বাচনের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে জনগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মসজিদে মাইকে ঘোষণা দিয়েও ভোটারদের আনা যায় না।

উপজেলা নির্বাচনেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। এটা কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মেনন এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মেনন বলেন, নির্বাচন এবং পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা নেই। যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তাহলে রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য এবং আওয়ামী লীগের জন্যও।

ভোট দেওয়ার ব্যাপারে জনগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। রোগ এখন উপজেলা নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। পাঁচ দফা উপজেলা নির্বাচনে তার দল, এমনকি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা করুণ।

নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং তাদের যোগসাজশ রয়েছে। এর ফলে নির্বাচন ও সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক স্পেস না থাকলে কেউ সংগঠন, আন্দোলন, ভোট নিয়ে এগুতে পারে না।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ফলে মধ্যবিত্তদের অ-প্রত্যক্ষ কর আরো বেশি ভাবে বহন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সাধারণ পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু চিনি, এলপিজি, প্লাস্টিক সামগ্রী, অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিলের দাম বাড়ছে। এসবই তো মধ্যবিত্তের গৃহস্থলীর জিনিস।

দেশের যে উন্নয়ন হচ্ছে তার ফল গুটি কয়েক মানুষ ভোগ করছেন দাবি করে মেনন বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন যারা দেখতে পারছেন না তারা জেগে ঘুমিয়ে আছেন। তবে এ উন্নয়নের ফল শুধু কিছু লোক পাচ্ছে, জনগণ পাচ্ছে না। চার কোটি লোক দরিদ্র, দু’কোটি লোক পুষ্টি পায় না। বঙ্গবন্ধু কন্যার এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে যদি আমরা শুধু পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে দেখি।

রাশেদ খান মেনন বলেন, যেখানে ১৯৯১-৯২ সালে গরিব ৫ শতাংশের হাতে সম্পদের এক শতাংশ ছিলো। সেটা ২০১৫-১৬ সালের এসে ঠেকেছে ০.২৩ শতাংশে। এ সময়ে বেড়েছে শীর্ষ ৫ শতাংশের সম্পদ বেড়েছে ১২১ গুণ। সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে কিছু হাতে, একটি দল সৃষ্টি হয়েছে যারা সুপার ধনী। যারা চীনের ধনীদের তুলনায় বেশি সম্পদের মালিক।

এদের মধ্যে ১০ শতাংশ ধনী মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছেন।

 

এএস