কুষ্টিয়ার আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় ‘আমার দেশ’পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতারা।
হামলার আগে অবরুদ্ধ অবস্থায় কুষ্টিয়া আদালত ভবনে এক ফেসবুক লাইভে ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, “পুরো আদালত পাড়া জুড়ে ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা মহড়া দিচ্ছে। তাদের দাবি কি সেটাও বুঝা যাচ্ছে না। একটাই বুঝছি তারা আমাকে এখান থেকে বের হতে দিতে রাজিনা।”
মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমি এই অভিজ্ঞতায় আশ্চর্য হইনি। বাংলাদেশে গণমানুষের কোনো অধিকার নেই, সংবাদপত্রের কোনো স্বাধীনতা নেই। সেটার সর্বোৎকৃষ্ট প্রমাণ আমরা আজ কুষ্টিয়াতে পেলাম। এরকম দৃশ্য মনে হয় কুষ্টিয়াতে আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি।”
“কারণ এখানে আমাদের যে আইনজীবী আছেন তারা প্রত্যেকেই বললেন, এটা তাদের জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা। আমি এখানে এসেছিলাম একটা মানহানি মামলায় হাজিরা দিতে। আপনারা জানেন যে, মানহানি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে জামিন দিতে হয়। এটাই আইন।”
আরও পড়ুন: আদালতে ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মক আহত মাহমুদুর রহমান (ভিডিও)
আমার দেশ সম্পাদক বলেন, “এই আইন ভেঙে আমার জামিন বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব আমাকে জামিন দিয়েছেন। কিন্তু জামিন দেয়ার পর থেকে তারা আমাকে বের হতে দিচ্ছেনা। এর পেছনের সকল ইন্ধন হচ্ছে এখানকার ওসি এবং এসপির। তাদের ইন্ধনে এই কাজ হচ্ছে।”
“কারণ ওসি-এসপি তারা দেখেও না দেখার ভান করছে। এমনকি আমাদের সামনে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ওসিকে ডাকলেন। ওসি সামান্য সৌজন্য দেখিয়েও আসেনননি। বরং তিনি বলে দিলেন, আসতে পারবেন না।”
মাহমুদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ আজ কোন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আপনারা বুঝতে পারছেন এই দেশের জনগণ যদি লড়াই করে সরকারকে প্রতিহত না করে, তাহলে মানুষের মুক্তি আসবেনা।”
“আপনার জানেন আমি পাঁচ বছর জেলে ছিলাম। আমার নামে ১২৫টি মামলা। আমি ৩৮দিন পুলিশের রিমান্ডে ছিলাম। সেই রিমান্ডে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহ আমার হায়াত এখনও রেখেছেন তাই আমি বেঁচে আছি। ততদিন ন্যায়ের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আমি লড়াই করে যাব।” বললেন আমার দেশ সম্পাদক।
সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ কুষ্টিয়ার সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু জানান, মানহানির একটি মামলায় জামিন নিতে আজ দুপুর ১টার দিকে তিনি সঙ্গীদের সাথে আদালত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে আদালত ভবনের প্রতিটি প্রবেশ দ্বারে ছাত্রীলীগের নেতাকর্মীরা আটকে দেয়। এসময় তিনি পুনরায় আদালতের এজলাসে আশ্রয় নেন।
এ্যাডভোকেট অপু বলেন, দীর্ঘ সময় একই পরিবেশ বিরাজ করায় তিনি আদালতকে বিষয়টি জানান এবং লিখিতভাবে পুলিশ প্রেটেকশনের জন্য আবেদন করেন। ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে এই হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তার গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়।
এসময় আদালতে মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী কুষ্টিয়া ব্যারের সিনিয়র আইনজীবি প্রিন্সিপাল আমিরুল ইসলাম, বিএফইউজে মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীসহ অনেকে তার সাথে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমানকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এনে গুলশান ২ নম্বরে অবস্থিত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানো হবে।
এমবি





