সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, দেশের চলমান সঙ্কট সমাধানের একমাত্র পথ সংলাপ এবং এর উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।
দেশকে বাঁচাতে চাইলে দেশের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে। তিনি একবার টেলিফোন করেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সাড়া দেন নি। আর এ সাড়া না দেওয়া ছিল খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভুল। দেশকে বাঁচাতে হলে খালেদাকে আরেকবার টেলিফোন করতে তো প্রধানমন্ত্রীর বাধা নেই। দেশকে, দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীকেই এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রুহুল আমিন গাজী।
সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতীয় সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানেন না, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। তিনি কোয়ালিফাইড। ইচ্ছা করলে পারেন, বুঝতে পারেন, সমাধান করতে পারেন। আর প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে তিন মাসের মধ্যে সমাধান করতে পারেন।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনো নির্বাচনই নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের এক বছর পর গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের বিজয় উদযাপন করছেন। বর্ষপূর্তি পালন করেছেন। শাবাশ বাঘের বাচ্চা। যে নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণ যে নির্বাচনে ভোট দেয় নি।
১৯৯৬ সালেও এ ধরনের একটি নির্বাচন হয়েছিলো। আমিও তখন নির্বাচিত হয়েছিলাম। যে জন্য আমি লজ্জিত ছিলাম। তখন তিন মাসের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন হয়েছিলো।
পেট্টোলবোমা হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি পেট্রলবোমার বিরুদ্ধে। কিন্তু এ বোমা কে মারে এটা খুঁজে বের করতে হবে। এসময় তিনি কারা পেট্রলবোমা মারে তাদের খুঁজে বের করতে একটি কমিটি করতে প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানান।
এদের খোঁজ করার জন্য, কারা বোমা মারে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। এটার কারণও খুঁজে বের করতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডের আসল ব্যাপার কী?
তিনি বলেন, বর্তমানে ৭ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কিছুদিন পর যদি ১৪ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাহলে দেশে শতকরা একজন করে মামলার আসামী হবেন। তখন বিশ্বরেকর্ড হয়ে যাবে।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি এম খালেদ আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।
বারী/এসএইচ





