একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রতিবাদে হরতালের সমর্থনে জামায়াতে ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা আজ সন্ধায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে।
জামায়াত সূত্রে জানা যায়, হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে যাত্রাবাড়ী থেকে ২ জন এবং পল্টন থেকে ২জনকে আটক করে পুলিশ। তবে, এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান বলেছেন, সরকার দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ ধবংস করতেই একের পর এক বরেণ্য জাতীয় নেতাদের হত্যা করছে। সে ধরাবাহিকতায় শহীদ মীর কাসেম আলীকেও নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তৌহিদী জনতা সরকারের নৃশংসতা মেনে নেবে না বরং ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের রক্তের বদলা নেবে।
তিনি শহীদ মীর কাসেম আলীকে হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল অর্ধদিবস সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ হরতাল ঢাকা মহানগরীতে সফল করার জন্য সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
তিনি আজ রাজধানীতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শহীদ মীর কাসেম আলীকে হত্যার প্রতিবাদে আগামীকালের অর্ধদিবস হরতালের সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
মিছিলটি মিরপুর ২নং কাসেমের মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দিগন্ত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আনিসুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন, শিবিরের মিরপুর পূর্ব ও স্কুল থানার সভাপতি তানভীর হোসেন, ছাত্রনেতা মানিকসহ স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ।
মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকার অপশাসন-দুঃশাসনের কারণে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন জনগণের উপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধবংস করে দিয়ে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠার দিবাস্বপ্নে বিভোর। কিন্তুআত্মসচেতন জনতা সরকারের সে ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না বরং যেকোন মূল্যে সরকারের সকল দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।
তিনি সরকারকে ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আটক জামায়াতের শীর্ষনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।

মোহাম্মদপুর-আদাবর
হরতালের সমর্থনে মোহাম্মদপুর-আদাবর থানা যৌথ ভাবে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও মোহাম্মদপুর থানার আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন। উপস্থিত ছিলেন আদাবর থানার আমীর ডা. শফিউর রহমান, জামায়াত নেতা আ. হান্নান, আব্দুল ওয়াজেদ, ছাত্র নেতা শামীম হুসাইন, মোখলেসুর রহমান প্রমুখ। মিছিলটি তাজমহল রোড থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন সাক্ষ্য ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যা করেছে এই সরকার। সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জনগণ রাজপথে নেমে এসেছে। তিনি সবাইকে আগামীকালের হরতাল সফল করতে সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

কাফরুল থানা
হরতালের সমর্থনে আজ সন্ধ্যায় একটি মিছিল বের করে কাফরুল থানা জামায়াত। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক এ.করিম, থানা সেক্রেটারি আব্দুল মতিন খান, জামায়াত নেতা ইকবাল হোসাইন, সেলিম খলিফা প্রমুখ।
বাসাবো
আগামীকালকের হরতালের সমর্থনে বাসাবো স্বপ্ন মার্কেটের সামনে ৭.৩০ মিছিল বের হয়ে সংক্ষিপ্ত পথসবার মাধ্যম শেষ হয়। পথ সভায় স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রমনা থানা
সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মগবাজারে জামায়ত নেতা ইউসুফ আলী মোল্লার নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত হয়। বিক্ষোভে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমান ও আক্তার হোসেন, ছাত্রনেতা কামারুজ্জামান, আনিসুর রহমান ও ইউসুফ প্রমূখ।
.jpg)
শাহাজাহানপুর থানা
শাহজাহানপুর থানা হরতালের সমর্থনে ৭.৩০ টায় মালিবাগ মোড় থেকে মিছিল বের করে। নেতৃত্ব প্রদান করেন থানা সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা হাসান মাহমুদ, জামায়াত নেতা সারোয়ার হোসেন, রাসেল মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম ও মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।
কোতয়ালী থানা
আগামী কালের হরতালের সমর্থনে কোতোয়ালী থানার উদ্যোগে বাবুবাজার থেকে সদরঘাট এলাকায় সন্ধ্যা ৭:৪৫ টায় থানা আমীর আবু আবদুল্যার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারী এম আর আজাদ, জামায়াত নেতা এ কে নাঈম, ডাঃ আবু নাসের, অধ্যক্ষ আলমগীর, আবু মুয়াজ, নূরে আলম, আমীর হোসেন, আলী আজম, ছাত্র নেতা মোঃ হোসেন ও আসিফ মাহমুদ প্রমূখ।
যাত্রাবাড়ী পশ্চিম
হরতালের সমর্থনে যাত্রাবাড়ী পশ্চিম শহীদ ফারুক রোডে সন্ধ্যা ৭টায় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ। এখানে ২জন ছাত্র গ্রেপ্তার হয়।
.jpg)
কদমতলী পশ্চিম
হরতালের সমর্থনে কদমতলী পশ্চিম থানা জুরাইন কমিশনার রোডে সন্ধ্যা ৭টায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করে। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থি’ত ছিলেন স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ।
বংশাল
বংশাল থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল এস.সি.সি রোড থেকে নয়া বাজার গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা মনির হোসেন মিজি, মাসুদ, এ ,সামাদ,শামিম, সিদ্দিকুল্লাগ,সা'আদ উল্লাগ ও মো: নাসির প্রমুখ।
বনানী
বনানী থানা সক্রেটারি মাহমুদুর রহমান আজাদ এর নেতৃত্বে মহাখালী কাচা বাজার থেকে বনানী রেলগেট গিয়ে শেষ হয়। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা শোয়েব আখতার, জামান হাসোইন ও শহীদুল্লাহ প্রমুখ
হাজারীবাগ-ধানমন্ডি
হরতালের সমর্থনে মিছিল করে হাজারীবাগ-ধানমন্ডি থানা জামায়াত ও শিবির। নেতৃত্ব দেয় থানা জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ।
গেন্ডারিয়া থানা
গেন্ডারিয়া থানার উদ্যোগে আগামীকালের হরতালের সমর্থনে এক বিক্ষোভ মিছিল দয়াগঞ্জ সড়কে সন্ধ্যা ৭ টায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, ফরিদ, আলী আকবর, ছাত্রনেতা তৌফিক, ফাহাদ ও রফিক প্রমুখ।
খিলগাঁও-সবুজবাগ
হরতালের সমর্থনে খিলগাঁও ও সবুজবাগ থানার যৌথ উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি নন্দীপাড়া ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা আবু আব্দুল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আবু মাহি, বি আর রহমান, নাসিরুদ্দীন মজুমদার, কারুক ও ছাত্রনেতা হাফিজ প্রমূখ।
যাত্রাবাড়ী পূর্ব
হরতালের সমর্থনে যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা শাহজাহান। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা সায়েম উদ্দীন, কবির হোসাইন, আশরাফ আলী. লোকমান হোসেন, ছাত্রনেতা আমজাদ, সাইফুর রহমান, শেখ ফরিদ, হীরা ও মিন্টু প্রমূখ।
এছাড়াও মিরপুর পশ্চিম, দারুসসালাম, উত্তরা জোন, তেজগাঁও ও পল্লবী থানায় হরতালের সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এফএফ/এমবি





