সংসদ কার্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ইউপি সাধারণ নির্বাচনে প্রথম থেকে ষষ্ঠ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও একই দলে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সহিংসতার ঘটানা ঘটেছে। ৪ হাজার ১০৪টি ইউনিয়নে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

সংসদে প্রশ্নোত্তরে আজ সোমবার মো: রুস্তম আলী ফরাজীর (পিরোজপুর-৩) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদে একথা বলেন। সকালে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণার পর হতেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি উপজেলায় ভোটগ্রহণের দিনের পূর্বের দুই দিন ও ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দিন অর্থাৎ মোট চার দিন আরো অতিরিক্ত তিন জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আচরণ বিধি প্রতিপালনের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এছাড়া প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২০ জন এবং গুরৃত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২১ জন সশস্ত্র ও লাঠিধারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ৩য় ধাপের নির্বাচনের পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে ২য় দফায় আরো একটি সভা করে তাদের অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনারগণ ও কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রচারিত সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে আইনমন্ত্রী জানান।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে যাতে মহিলা ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠি নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং নির্বাচনে পরবর্তী সময়ে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ নজর রাখেন।

অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলকারিরা এনআইডি সংশোধনে দুর্ভোগের অভিযোগ করে

মো: আব্দুল্লাহর (লক্ষীপুর-৪) এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ কার্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলকারি ব্যক্তিরাই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনকরণ অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনাআইডি) ভুল সংশোধন করতে গেলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে সচরাচর অভিযোগ করে থাকে।

মন্ত্রী জানান, প্রথম ঢাকায় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন গ্রহন করা হলেও এখন তা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সারাদেশে ৫১৫টি উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন জমা নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে প্রেরণ করা হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া কার্ড এবং বানানগত ছোটখাট ভুল সংশোধনের আবেদন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। অনেকে নিজ নাম, পিতা ও মাতার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন, বয়স ১০-৩০ বছর পরিবর্তন করার আবেদন করেন। যার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্র প্রয়োজন হয়। অনেক সময় সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন হয়। এতে স্বাভাবিকভাবে একটু বেশি সময় প্রয়োজন। অনেকে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে তার আইডি কার্ডের প্রকৃত তথ্য পরিবর্তন করতে চান। এসব বিষয়ে কমিশনকে সর্বাধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এজন্য কিছুটা বিলম্ব ঘটতে পারে।

দেশে ৯২০টি এনজিও

মামমুনুর রশীদ কিরণের (নোয়াখালী-৩) এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ কার্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী জানান, বর্তমানে দেশে সর্বমোট ৯২০টি এনজিও আছে। এর মধ্যে দেশী ৭৬৫টি এবং বেদেশী ১৫৫টি। মন্ত্রী এনজিওগুলোর তালিকা তুলে ধরেন।

এমআইএস