প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেছেন, ছাত্র রাজনীতি হতে হবে আদর্শ ভিত্তিক। আর সেই আদর্শ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, স্বাধীনতা আন্দলনের আদর্শ।
আজ (শনিবার) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপ মহাদেশের প্রাচীনতমো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আদর্শবাদী সংগঠন ছাত্রলীগ।
শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আদর্শ দিয়ে গড়ে উঠতে হবে, ছাত্র লীগের আদর্শ লালন করতে হবে, লেখা পড়া করতে হবে। আমি ছাত্রলীগের হাতে বই-কলম তুলে দিয়েছি, অস্ত্র নয়।
তিনি বলেন, মহান অর্জনের জন্য দরকার মহান ত্যাগ। আজকে যারা শুধু ভোগের জন্য রাজনীতি করেন তারা দেশকে কিছুই দিতে পারবেন না।
শেখ হাসিনা ছাত্র লীগকে লেখাপড়ার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, নেতৃত্ব মনোনয়নের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী ছাত্রদের বেছে নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন ২০১৩ সালে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুই বছর দেরি হয়েছে। তাই ত্যাগী ছাত্র নেতারা যাতে আক্ষেপ না করেন তাই দায়িত্ব পাওয়ার জন্য অনুর্ধ ২৭ বছরের স্থানে ২৯ বছর করা হয়েছে।
বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইউব খান কাজ করেছিল, যেভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, একাধারে রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধান, ঠিক সেভাবেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল জেনারেল জিয়া।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে নস্যাৎ করার এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বার বার।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রত্যেক আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগের হয়ে রাজপথে ছিলাম। এখনো দেশের সব সংকট মুহুর্তে ছাত্রলীগই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তাই ছাত্রলীগকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।
শান্তি ছাড়া প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া যায় না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী, গ্রেনেড হামলা, সন্ত্রাস, প্রতিদিন অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে হয়েছে। আমরা আর এসব দেখতে চাইনা।
তিনি বলেন, যারা ২১ বছর সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ লালন করেছেন তা একদিনে দমন করা যায় না। এজন্য সময় লাগবে।
ছাত্র লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, ৬৯এর গণঅভুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার এবং ৭১ এর মুক্তযুদ্ধ সবই ছাত্রলীগের আন্দোলনের ফসল। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামেই ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রলীগ রক্ত দিয়েছিল।
কেবি/ইআর





