আইনের শাসনের পরিবর্তে হাসিনার শাসন দিয়ে জনগণকে নির্যাতন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেন, জোর করে শাসন করা যায় তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এখন আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। সরকার পরিবর্তন হলে এই শাসকদের বিচার হবে। কেউ রক্ষা পাবে না।


মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থা আয়োজিত চলমান রাজনৈতিক সংকট, আসন্ন রাজনৈতিক সংঘাত নিরসনে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রাক্তন সৈনিকদের ভাবনা এবং দেশ প্রেমিক নাগরিকদের করণীয় আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আইনের শাসন নিজস্ব গতিতে চলতে দিচ্ছে না। গুম-খুনের বিরুদ্ধে ,মৌলিক অধিকার রক্ষায় যারা কথা বলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে নির্যাতন করছে। সরকারের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের সভাসমাবেশ বিক্ষোভ করতে দিচ্ছে না। এটা সম্পূর্ন সংবিধান পরিপন্থি।


তিনি বলেন, সংবিধান রক্ষার জন্য সুষ্ঠ নির্বাচন দিতে হবে। আওয়ামী লীগ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পদদলিত হয়ে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশের রাজনীতি নষ্ট করেছে। নিরপেক্ষ নিরদলীয় সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রাজনীতিতে এবং দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।


বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দশম জাতীয় সংসদে জনগণ ভোট দিতে পারে নাই তাই এটাকে সাংবিধানিক সরকার বলা যাবে না। এটা একটি অবৈধ সরকার। এদেও নৈতিকতা নেই। যারা বিনা ভোটে নির্বাচিত হিসেবে সংসদে আছেন তাদেও সংসদে যাওয়ার কোন অধিকার নেই।


তথ্যমন্ত্রী ইনু এবং এরশাদকে খুনী উল্লেখ্য করে নোমান বলেন, জাসদ, এরশাদ ও আওয়ামী লীগ একে অপারের ৫০ হাজার রাজনৈতিক লোককে হত্যা করেছে। তারা সংসদেও এই হত্যার কথা বলেছে। সংসদে রেকর্ড আছে। এই হত্যার একদিন বিচার হবে।


সরকারের উদ্দেশ্য নোমান বলেন, এখনও সময় আছে সুষ্ঠ নির্বাচন দিন। অন্যথায় গণজোয়ারে ভেসে যাবেন। নেতাকর্মীকে ও উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আন্দোলন ছাড়া কোন কিছু অর্জন করা যায়নি। যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা আন্দোলনের মাধ্যমেই হয়েছে। তাই আন্দোলনের বিকল্প নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন করে এ সরকারকে বিদায় করতে হবে।


জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ-সভাপতি এলবার্ট পি কস্টার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন,জ্যাস্টিস প্রিভেইল পার্টির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম কমল, আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান শহিদ চৌধুরী, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মো. আজহারুল ইসলাম প্রমুখ।


ঢাকা, এমএইচ, ১৫ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) এসআর