গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে যোগ দিয়েছেন দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া দলটির একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী মোকাব্বির খান।
শুক্রবার গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে শুরু হয় দলটির বিশেষ কাউন্সিল। ওই কাউন্সিলের মঞ্চে দেখা যায় মোকাব্বির খানকে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
এর আগে ২ এপ্রিল গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এর পরই মোকাব্বির খানের জন্য নিজের দরজা বন্ধ বলে জানিয়েছিলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। কিন্তু এরইমধ্যে কাউন্সিল অধিবেশনে মঞ্চে কামাল হোসেনের পাশেই দেখা যায় তাকে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন গণফোরামের এ নেতা। শপথ গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মোকাব্বির দাবি করেছিলেন- তিনি গণফোরামের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের অনুমতি নিয়েই শপথ নিয়েছেন।
তবে শপথ নেয়ার দুদিন পর ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সালাম দিতেই চরম রাগান্বিত হয়ে কামাল তাকে বলেন- ‘আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট, গেট আউট। আমার অফিস ও চেম্বার আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।’
এর আগে গত ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া গণফোরামের আরেক প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে মোকাব্বির খানকে নিয়ে কামাল হোসেনের নানামুখি নীতি গণফোরামের রাজনীতির জন্য খুব কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন দলটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক।
অন্যদিকে মোকাব্বির খানকে সম্ভবত দাওয়াত ছাড়াই কাউন্সিলে যোগ দিয়েছেন বলে সংশয় প্রকাশ করেন গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মোট ৮টি আসনে জয়লাভ করে। এর মধ্যে বিএনপি ৬টি ও গণফোরাম ২টি আসন পায়।
এদিকে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিল শুরু হয়। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত রয়েছেন সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, জগলুল হায়দার, আবু সাঈদ প্রমুখ।
এসএম





