আজ শনিবার সকালে জাহাঙ্গীর শেখ খুলনা নগরের সাতরাস্তা মোড় এলাকায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে। বাগেরহাট শহর থেকে ওই গ্রামের দূরত্ব ১২ কিলোমিটারেরও বেশি। আর খুলনা শহর থেকে বাগেরহাটের দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার। তিনি বনগ্রাম ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে দুলালকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে খুলনার উদ্দেশে বের হয়েছিলাম। কিন্তু বাগেরহাট শহর পার হতে পারিনি। শহরে মোটরসাইকেল আটকে দেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। পরে বাড়ি ফিরে যাই। কীভাবে সমাবেশে যাওয়া যায়, সেটা নিয়ে দিনভর ভাবতে থাকি। পরে রাত আড়াইটার দিকে দুলাল শেখকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে হাঁটা শুরু করি।
লুঙ্গি পরে আসার কারণ সম্পর্কে জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ বলেন, ‘বাড়ি থেকে আসতে দিতে চাইছিল না। পথে বাধা দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কায় লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। লুঙ্গি পরে আসার ফলে কোথাও কেউ বাধা দেয়নি। ভোরের দিকে খুলনায় এসে পৌঁছেছি। এখন কে কোথায় আছে, মোবাইল ফোনে সেটা জানার চেষ্টা করছি। পরে একসঙ্গে দল বেঁধে সমাবেশ স্থলে যাব’।
রয়েলের মোড় এলাকায় দেখা যায়, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা থেকে একদল লোক কারও জন্য অপেক্ষা করছেন। মোবাইল ফোনে বিভিন্নজন অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। ওই দলের শাহাদাত হোসেন নামের একজন বলেন, ‘ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা বলেন, ‘বাগেরহাটের রামপালে এসে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে খুলনার দিকে রওনা দিই। একপ্রকার হেঁটেই আসতে হয়েছে। রামপাল থেকে কিছুটা পথ ইজিবাইকে আসার পর তা আটকে দেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
এরপর নেমে হাঁটা শুরু করি। কিছু দূর আসার পর আবার ইজিবাইকে উঠি। কিন্তু আরেকটু একটু আসার পর আবার ইজিবাইক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাগেরহাটের পথে পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা। আমরা হেঁটে আসতে পারলেও পরে অনেকে হেঁটেও আসতে পারছেন না। তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাগেরহাটের দিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।





