ভারত জোরপূর্বক অস্ত্রের বলে কাশ্মীরকে জুলুমের রাজ্যে পরিণত করেছে। বর্তমানে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদাদান সম্বলিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং কাশ্মীরকে প্রশাসনিক বিভক্তিকরণের মাধ্যমে কাশ্মীরি জনগণের সাথে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা
আজ ২৬শে আগস্ট সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে “কাশ্মীর সংকটঃ বিপন্ন মানবতা” শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ড. কামাল উদ্দিন জাফরী।
গোলটেবিল বৈঠকে সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, আজ ভারত সরকার কাশ্মীরের নিরাপরাধ জনগনের অধিকার কেঁড়ে নিয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সেখানে চরমভাবে সরকারের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে। আজ কাশ্মীরের জনগনের ঘরে ক্ষুধা নিবারনের জন্য খাবার নেই, হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ নেই। গণগ্রেফতারের ফলে কারাগারে তিল ধারণের জায়গা নাই। আজ পশু কুরবানির পরিবর্তে স্বজনদের হারিয়ে তাদের ঘরে ঘরে শোকের মাতম চলছে।
ভারত সরকারের এই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। এ অবস্থায় মুসলিম বিশ্ব, জাতিসংঘ সহ বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলো কিছুতেই চুপ থাকতে পারে না। একটি জনপদের শান্তিকামী জনগণকে যুগের পর যুগ জুলুম নির্যাতনের মুখে ফেলে রাখা কোনভাবেই সু-সভ্যতার পরিচায়ক হতে পারেনা। ফলে গোলটেবিল বৈঠক থেকে বক্তাগন অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীরের মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষা ও তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে জাতিসংঘকে কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান।
বক্তাগণ আরোও বলেন, কাশ্মীরের জনগণ যুগের পর যুগ জুলুম নির্যাতন নিষ্পেষনের শিকার হয়েছে কিন্তু নিজেদের অধিকার ছাড়েনি এবং ছাড়বেও না। সুতরাং ভারত সরকারের এই আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত পৃথিবীর ভূস্বর্গ খ্যাত শান্তির এ উপত্যকাকে আরো অস্থির করে তুলবে এবং যার প্রভাবে গোটা ভারতীয় উপমহাদেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। যা আমাদের কারো কাম্য নয়। ফলে অনতিবিলম্বে কাশ্মীরের মুসলমানদেরকে ঘিরে সকল অন্যায় ও দমনপীড়নমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত হয়ে কাশ্মীরী জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি বৈঠক থেকে দাবী জানানো হয়।
এমআর





