কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিভোক্ষ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

সমাবেশে রিজভী বলেছেন, জেলখানার একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বেগম খালেদা জিয়াকে রেখেছেন। সেখান থেকে কয়েকদিন পর পর টেনে-হিঁচড়ে আদালতে নিয়ে যাচ্ছেন। কেন? এই টানা-হিঁচড়ে করে কী দেশনেত্রীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন?

আজ (০৪ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভোক্ষ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আপনার (প্রধানমন্ত্রী) মনে কী শান্তি আছে? অবৈধভাবে, অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় থাকলে মনে কখনোই শান্তি থাকে না। সব সময় পতনের আশংকায় দুশ্চিন্তা থাকবে।”

তিনি বলেন, “নেলসন ম্যান্ডেলাকে ২৭ বছর কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। তাতে জনগণ কার দিকে ছিল? বিশ্ব জনমত কার দিকে ছিল? শ্বেতাঙ্গরা সেদিন বাঁচতে পারেনি। গোটা বিশ্বে নন্দিত-জননন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। আপনি বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেছেন, বন্দি রেখেছেন। তিনি এখন আর বাংলাদেশের নেতা নন, এশিয়া, লাতিন আমেরিকার মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া। তিনি অন্যায়-প্রতিহিংসা-জিঘাংসার শিকার। তার চিকিৎসাও করতে দিচ্ছেন না।”

রিজভী বলেন, দেশনেত্রী সুস্থ মানুষ কারাগারে হেঁটে গেলেন। এখন তিনি হাঁটতে পারছেন না, হুইল চেয়ার ব্যবহার করছেন। তিনি মাথা সোজা করতে পারছেন না। জেলখানার একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রেখেছেন তাকে। সেখান থেকে কয়েকদিন পর পর টেনে-হিঁচড়ে আদালতে নিয়ে যাচ্ছেন। কেন? এই টানা-হিঁচড়ে করে কী দেশনেত্রীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন?

সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, “আপনি এক এক করে গণতন্ত্র হরণ করেছেন, স্বাধীনতাকে ধ্বংস করেছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছেন, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছেন। আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করে হরণতন্ত্র চালু করেছেন।”

রিজভী বলেন, তারপরও কি টিকে থাকা যাবে? গণজোয়ারের সম্ভাবনা আপনি হয়তো টের পাচ্ছেন না। কিন্তু অন্যায়-অবিচারের লৌহ-শৃঙ্খল ভেঙে যে গণজোয়ার তৈরি হবে, সেই গণজোয়ার আপনি কোনোভাবে ঠেকাতে পারবেন না।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, পেয়ারা মোস্তফা, শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, সাবিনা ইয়াসমীন, মাসুদা খানম লতা, নিলুফার ইয়াসমীন নিলু, সেলিনা হাফিজ, মর্জিনা আফসারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

এমবি