বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এতে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ।

সুমন সিলেট শহরের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। আর উত্তম কুমার দাসকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাহলে এ ঘটনার দায় কেন ছাত্রলীগ নিবে? প্রশ্ন রাখেন ছাত্রলীগ সভাপতি।

সোহাগ অভিযোগ করেন শাবিপ্রবি'র সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে কিছু গণমাধ্যম ঢালাওভাবে ছাত্রলীগকে জড়ানোর হীন চেষ্টা করছে।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এ কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই এই সংঘর্ষের দায় বাংলাদেশ নেবে না।

সোহাগ বলেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পেছনে দায়ী বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ না। ছাত্রলীগের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যিনি মারা গেছেন তিনিও বহিরাগত ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত।

তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কারো কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরর গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ।

তিনি বলেন, গত ১৯ নভেম্বর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আঞ্চলিক গ্রুপিংকে ছাত্রলীগের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, এ সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হচ্ছে। কিন্তু তাদের পুলিশ গ্রেফতার করছে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তারা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করে। তারা আইন হাতে তুলে নিতে পারে না। দল থেকে বহিষ্কার করতে পারে। তাদের গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কাজ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্ল্যা, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে সুমন চন্দ্র দাস নামের একজন শিক্ষার্থী নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ কমপক্ষে ২০ জন।

এমআর/এএইচ