বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বরণ করা, তার আদর্শ ও দর্শনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া মধ্যেই বাংলাদেশের সার্বিক মুক্তি সম্ভব। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একদিকে যেমন তিনি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের বাকস্বাধীনতাকে সমানে নিয়ে এসছিলেন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অন্যদিকে উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশে একটি বিপ্লব সূচনা করেছিলেন। উন্নয়নের জন্য টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পয়ে হেটে হেটে মানুষকে তিনি উজ্জীবিত করেছিলেন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি- গোটা বাংলাদেশে তার আদর্শ ও দর্শনের ভিত্তিতে নতুন করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সমৃদ্ধ ও শান্তিময় বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য তারা কাজ করবে।এটাই হচ্ছে আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আজকের পেক্ষাপটে যখন আমাদের মানবাধিকার ভুলুণ্ঠিত, মানুষের কথা বলার অধিকার নেই এই মুহুর্তে জিউয়াউর রহমানের নাম বেশি করে স্বরণ করব। কারণ তিনিই এই জাতিকে মুক্তি পথ দেখিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন আমরা দেশে সার্কের আঞ্চলিক চিন্তা এটা জিয়াউর রহমানই শুরু করেছিলেন। তারই মধ্যমে এই অঞ্চলে সহযোগিতার স্বপ্ন দেখিয়ে গিয়েছিলেন। সেই মানুষটিকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের শত্রুরা যারা বাংলাদেশকে সতিৎকার অর্থে একটি সমৃদ্ধ দেশে হিসেবে দেখতে চায় না তারা তাকে ৩০ মে চট্টগ্রামে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। তিনি দেশ ও জাতির কঠিন সময়ে আর্বিভূত হয়েছেন। জাতিকে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে ২৬ যখন গোটা জাতি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে ছিল রাজনীতিক সিদ্ধান্তের অভাবে। তখন এই সৈনিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযোদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন। দেশে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তিনি নিজে যুদ্ধ করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হয়েছিল।

তিনি বলেন, যতদিন দেশে পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখন তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ক্ষেত্রে অবদান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়ন জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এসেছে। এসময় তিনি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

যৌথ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, ডা. শাখাওয়াত হোসেন জীবন, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ প্রমুখ। এছাড়া দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর