ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি প্রবীন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে না। ঢাকা–৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী এ কথা জানান।

আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা–৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়ন ফরম জমা দেন সুব্রত চৌধুরী।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি বলেন, ‘আমরা ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী জোয়ার তৈরি করেছি। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে আমরা দিন দিন হতাশার দিকে যাচ্ছি। ইসির আচরণের মনে হচ্ছে, তারা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে। তারা ৫ই জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচনের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। 

জামায়াত প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, তিনি জামায়াত দেখেন না। জামায়াত যাঁরা, তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই বছরের আগস্টে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন একটি জোট গঠন করে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রধান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বে। ওই সময়ে তার সাথে জোটে যুক্ত হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যমঞ্চ, নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী’র তরিকত ফেডারেশন এবং একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা। আগস্টে ফ্রন্ট করলেও ডিসেম্বরে এ ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যায় তরিকত ফেডারেশন। এর কিছুদিন পর বেরিয়ে যান ড. কামাল হোসেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বি চৌধুরী আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক মঞ্চে উঠলেও জোটে স্থান হয়নি তার। 

২০১৮ সালে এসে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে বছরখানেক চেষ্টা চালানোর পরে ১৩ই অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোটের ঘোষণা করা হয়। এর সাথে সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর নেতারা ৭ দফা দাবী এবং ১১ দফা লক্ষ্য তুলে ধরেন।তবে মতপার্থক্য থাকায় বাদ পড়ে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর অন্যতম উদ্যোক্তা একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ।

এসএম