অবৈধ সরকার নিজেদের অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ২০ দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার বেলা ১১টায় নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সংঘাত চায় না। বিএনপি গণতান্ত্রিকভাবেই এই অবৈধ সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাই আর্ন্তজাতিক গুম দিবস উপলক্ষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আজকের মানববন্ধন কর্মসূচি আগামী ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তবে স্থান ও সময় পরবর্তীতে জানানো হবে।
বিএনপিরএই নেতা বলেন, এরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে গুম করার পাশাপাশি ভোট, পার্লামেন্ট, আইনের শাসন এবং সবশেষে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকেও গুম করেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায়। বর্তমানে দেশে আইনের শাসনের বদলে চলছে আওয়ামী বন্যশাসন। রক্তপাতকে বানিয়েছে রাজনৈতিক ইশতিহার।
মির্জা ফখরুল বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সালের ২৯মে পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ৩৩০ জন ব্যক্তিকে গুম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এর মধ্যে ৫৭ জনের লাশ পাওয়া গেছে।
তিনিবলেন, কোনো পাশবিক স্বৈরাচার সরকার চিরদিন একটানা ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। যারা নিজেদের জেদ ও স্বার্থপরতার জন্য জনগণকে পীড়ন করে তাদের পরিণতি ইতিহাসের পাতায় জাজ্ব্যলমান। কোনো স্বৈরাচারই নিজেদের অবাধ অপকর্ম অব্যাহতরাথতে পারেনি।
এসময় পুলিশ প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার অজুহাতে কথা বলে ২০ দলীয় জোটের মানববন্ধন করতে না দেয়ার জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্ষমতাসীনদের ‘প্রাইভেট বাহিনী’ হিসেবে কাজ করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাদের আচরণে প্রধানমন্ত্রী মনের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। দলীয় লোকদের দিয়ে সাজানোর কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাসকদলের অনুরাগী অঙ্গসংগঠনের পরিণত হয়েছে। এজন্য আইনের শাসন ধ্বসে গিয়ে আওয়ামী শাসনের বন্য উৎসব চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্যডা. রোদোয়ান উল্লাহ শাহিদী, জাগপা মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, এনপিপির মহাসচি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, কল্যান পার্টির মহাসচিব আনিসুর রহমান,
এনডিপির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আবুল কাশেম, খেলাফত মজলিসের শামসুদ্দিন পারভেজ, ডিএলের মহাসচিব সাইপুদ্দিন আহমেদ জনি, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, জমিয়তে উলামার মাওলানা মুহিউদ্দিন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, এমএইচ, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





