'দেশের প্রয়োজনে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুত’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে খুব বড় কোনো ত্যাগ স্বীকার না করে দেশের সংকট উত্তোরণে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ নির্বাচন ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ আহ্বান জানান।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বোধোদয়কে আমরা স্বাগত জানাই। দেশ চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে চলছে। দেশে খুনাখুনির রাজনীতি চলছে। সব কিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশ যদি আরও গভীর সংকটের দিকে যায় তাহলে সেখান থেকে দেশকে টেনে তোলা হয়তো আর সম্ভব হবে না।

তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর বড় মাপের ত্যাগ স্বীকার চাই না, আমরা চাই তিনি শুধু ছোট একটি ত্যাগ স্বীকার করুন। প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করে সবার অংশগ্রহণে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কবে হবে, তা তিনি ঘোষণা করুন। এতে তার রাজনৈতিক পরাজয় ঘটবে না। বরং এতে তিনি নজির হয়ে থাকবেন। মানুষের সমীহ পাবেন। তিনি মানুষের কাছে নমস্য হয়ে থাকবেন।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের কচুয়ায় ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষ্যে চাঁদা না পেয়ে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের উপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে,তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এটা কোন সভ্য দেশে হতে পারে না।

রিপন বলেন, দেশে আজ প্রতিবাদ করারও কোন সুযোগ নেই। অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিও আজ করা যায় না। বাধা দেওয়া হয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেশের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়ছে। তা প্রধানমন্ত্রীর ভাবা দরকার। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নেই। নামে মাত্র মেকি বিরোধী দল রয়েছে। সরকারের নৈতিক কতৃত্ব আজ দেশে প্রতিষ্ঠিত নেই। দেশে শুধু খাই খাই নয়, আজ ঘরে ঘরে খুন হচ্ছে। সেজন্য দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মেকি সংসদ নিয়ে সরকার আগানো যায় না।

রিপন বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের একমাত্র পথ সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ নির্বাচন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ নির্বাচন প্রয়োজন, তা বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্ররা সরকারকে সব সময়ে মনে করিয়ে থাকেন। তবে সরকার যদি বধির হয়ে যায়, তারা যদি জেগে ঘুমায় তাহলে করার কিছু নেই, আমরা আমাদের দাবি জানিয়ে যাব।

আরেক প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, নির্বাচন প্রশ্নে আমরা শুধু আমাদের সঙ্গে (বিএনপি) নয়, সব দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য বারবার সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। আমরা আলোচনার ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনের পদ্ধতি ও উপায় নির্ধারনে সমঝোতায় রাজি আছি। আমরা বলছি না সংবিধান থেকে বাতিল করা সেই তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এএসএম আব্দুল হালিম, এম এ কাইউম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি ও বিএনপি নেত্রী মেহেরুন নেসা হক প্রমুখ।

এএইচ