পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন কয়েকজন ছাত্রদল নেতা। যারা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ছাত্রদলের চিহ্নিত এ নেতারা এত দিন ছাত্রদলের ব্যানারে মিছিল থেকে শুরু করে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। এখন তারা হঠাৎ ভোল পাল্টে ছাত্রলীগ নেতার তকমা লাগিয়ে কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ ভাগিয়ে নিতে তৎপর। আর তাদের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সব নেতাদের ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ দেওয়া হবে বলে ঘোষণাও দিয়েছেন শাখা কমিটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শুরু থেকে ছাত্রলীগের ব্যানারে থাকা একনিষ্ঠ ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। ওই সব চিহ্নিত ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রদলের ব্যানার নিয়ে তোলা ছবিগুলো পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ঝড় তুলছেন ছাত্রলীগের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।

শাখা ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা বলছেন, বসন্তের কোকিলের মতো হঠাৎ করেই অপরিচিতরা ছাত্রলীগের ব্যানারে এখন ক্যাম্পাসে সরব। অথচ বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন সংগ্রামে তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। গুটিকয়েক নেতা-কর্মী ছাড়া কাউকেই রাজপথে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘ছাত্রদল ও অন্যান্য কিছু সংগঠনের চিহ্নিত ক্যাডাররা সুবিধা নেওয়ার জন্য ছাত্রলীগে যোগদান করেছেন। জেনেশুনে কমিটিতে ছাত্রদল ও শিবিরের কর্মীদের পদ দিলে ছাত্রলীগের আদর্শ ও নীতিকে বিকৃত করা হবে।’

অন্যদিকে ছাত্রদল নেতারা বলছেন, কর্মী সংকটে থাকায় ছাত্রলীগই জোর করে তাদের দলে বেড়াচ্ছে। ফলে ওই সব ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পেতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাই বেশি এগিয়ে। দেখা যাচ্ছে, ছাত্রদলের চিহ্নিত নেতা-কর্মীদের নিয়েই এখন চলছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। মাত্র আট থেকে দশজন নব্য ছাত্রলীগ কর্মীর দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এখন এরাই ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চালাচ্ছে বিভিন্ন অন্যায় অপকর্ম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমন বলেন, ‘ছাত্রলীগে এ ধরনের কোনো অনুপ্রবেশকারীর তথ্য পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিস বলেন, ‘এমন অভিযোগ সত্য নয়। তবে ছাত্রলীগে কিছু অনুপ্রবেশকারী থাকতে পারে। ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী পদ না পায়, সে ব্যাপারে পবিপ্রবি ছাত্রলীগ সতর্ক রয়েছে।’

সূত্র: রাইজিংবিডি

জেএ