জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রতিনিয়ত দেশের আইন, সংবিধান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মানবিক বিপর্যয়ের একটি দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে মানুষ হত্যা, অপহরণ, গুম এ সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গুলি করে যুবকদের আহত ও পঙ্গু করে দেয়া সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দিনের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদের ২ দিন যাবত কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরিবার-পরিজন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে।

গ্রেফতার করে দিনের পর দিন নিখোঁজ করে রাখা ও পরিবার পরিজনকে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠায় রাখার কোনো এখতিয়ার বাংলাদেশের কোনো বাহিনীকে দেয়া হয়নি।

বিবৃতিতে অবিলম্বে জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে তার পরিবারের নিকট ফেরত দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারের সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানোর বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংস্থা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে সন্ত্রাসী তাণ্ডব বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো সত্ত্বেও সরকার সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ করছে না।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার আজও (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের প্রায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছে খুলনা মহানগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদুল আলম। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মী আরিফুল ইসলামকে মুখোশধারী সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে।

পরিকল্পিতভাবে মানুষ হত্যা, গুম, অপহরণসহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ও স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগের দাবীতে ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।

অরেক বিবৃতিতে জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণহত্যা, গুম ও গণগ্রেফতার বন্ধে জাতিসংঘসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও সরকার নির্বিকার।

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলুম-নির্যাতনে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দায়মুক্তি না দিতে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে পুলিশের বর্তমান কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

মোবাইল ফোনে আড়ি পাতা এবং নজরদারি করার জন্য র‍্যাবের কেনা সরঞ্জাম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সুইজারল্যান্ড আটকে দেয়া হয়েছে। একটি স্বাধীন জাতির জন্য এটি লজ্জাজনক এতকিছুর পরেও সরকার নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপকৌশল হিসাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাসের কাজে ব্যবহার করে তাদেরকে গণহত্যার লাইসেন্স প্রদান করছে।

তিনি বলেন, সরকারি ইন্ধনে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার নির্দেশে একের পর এক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, থানায় নিয়ে পায়ে গুলি করা হচ্ছে আবার অনেককে গ্রেফতার করার পর স্বীকারও করছেনা।

কেএইচ