সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান নিজে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন নয়নকে। এ কথা নয়ন নিজেই আমাকে বলেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের সঙ্গে সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সাক্ষাত করেন চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা। এ সময় তিনি নয়নের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নয়ন সেদিন মগবাজার এলাকায় বেড়াতে গেলে তাকে ধরে বৈকালি হোটেলের ভেতরে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তাকে গুলি করেন ওসি। একজন আসামিকে সরাসরি গুলি করা নজিরবিহীন। এজন্য আইনি লড়াই করা হবে।
প্রসঙ্গত, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম নয়নকে গত ৮ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে আটকের পর বৈকালি আবাসিক হোটেলের ভেতরে নিয়ে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাপপাতালে ভর্তি করা হয়।
রবিউল ইসলাম নয়ন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের গলিতে বৈকালি হোটেলের সামনে চা খাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় সাদা পোশাকের কয়েকজন পুলিশ এসে তাকে আটক করে হোটেলের ভেতরে নিয়ে যায়। এর পর পুলিশ পেছন দিয়ে আমার কোমরে একটি পিস্তল গুঁজে দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নয়ন পিস্তলটি ফেলে দেন। এরপর পুলিশ তার বাম উরুতে শটগান ঠেকিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই নয়নকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। তিনি বর্তমানে ঢামেকের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন আছেন। তার বাম উরুতে চার-পাঁচটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
তবে হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নয়ন মাগুরা থেকে এসে বৈকালি হোটেলের ৩০৪ নম্বর রুমে অবস্থান করছে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। তার কক্ষের দরজায় নক করে পুলিশ। কিন্তু সে দরজা না খোলায় পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় নয়ন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে তার বাম পায়ের উরুতে গুলি লাগে। নয়নের নামে রমনা থানায় গাড়ি ভাঙচুরের মামলা রয়েছে।
কেএইচ





