বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা যতটুকু পারছি চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে পিরোজপুরের ঘটনায় কারও মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকা উচিৎ নয়, সরকারের ইচ্ছা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কোনোদিন হবে না।

শুক্রবার (০৬ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আকরাম খাঁ হলে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দুদকের মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লায়লা পারভীনকে গত ৩ মার্চ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানের আদালত। এরপরই এক আদেশে ওই জজকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরে ওই মামলার কার্যক্রম যুগ্ম-জেলা দায়রা জজ নাহিদ নাসরিনের আদালতে গেলে জামিন পান আউয়াল ও তার স্ত্রী।

সে বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সরকার যদি ইচ্ছা করে আদালত তাকে (খালেদা জিয়া) জামিন দিয়ে দেবে। কারণ আদালত এখন আর স্বাধীন নেই। আদালত যে সরকারের ইচ্ছায় চলে, পিরোজপুরের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের এই নেতা বলেন, এখন বিকল্প হলো আন্দোলন। আমি বিশ্বাস করি আন্দোলন হবে। কারণ দেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয় ও স্বাধীনতাপ্রিয়। আজকে সব গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

মওদুদ আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা চলে যাওয়ার পর গত ১১ ডিসেম্বর যে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে সে গেজেট অনুযায়ী বিচার বিভাগকে, নিম্ন আদালতকে প্রশাসনের অধস্তন করা হয়েছে। একেবারে লিখিতভাবে আইন করে। এখন নিম্ন আদালত প্রশাসনের অধীনে অর্থাৎ রাজনৈতিক ইচ্ছায় চলে।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমার কাছে সবচেয়ে বেদনার হলো, ১১ বছরে উচ্চ আদালত বা নিম্ন আদালত থেকে একটা রায়েও আমাদের দ্বিতীয় স্তরের কোনো নেতা রিলিজ পাননি।

তিনি বলেন, দেশে কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতি বলতে যেটা বোঝায় সে রাজনীতি নেই। এই সরকার দেশকে বিরাজনীতিকরণ করেছে। অথচ রাজনীতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না। রাষ্ট্র মানেই রাজনীতি। রাজনীতি মানেই রাষ্ট্র। আজকে সে রাজনীতি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিলীন করে দেয়ার চেষ্টা চলছে, শুধু ক্ষমতার লোভে ক্ষমতার স্বার্থে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে ‘নাগরিক অধিকার, ন্যায় বিচার এবং বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

এমবি