এরশাদকে ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘একাত্তারে যিনি দেশের বিরুদ্ধে ও হানাদার বাহিনীর পক্ষে দালালী করেছেন, এখনও তিনি দালালীতে লিপ্ত রয়েছেন। তাই পদলেহী সরকারের সুঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে পারেন তালপট্টির কোনো অস্তিত্ব ছিলো না। এই হলো এরশাদের স্বাধীনতা প্রীতি।’
রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ‘মিথ্যাচারের প্রতিভূ’ হিসেবে অভিহিত করেছে বিএনপির এই নেত।
রিজভী আরও বলেন, ‘এরশাদের জীবন কেটেছে হত্যা, ষড়যন্ত্র, লোভ, দুর্নীতি আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে। অথচ তিনি বলছেন, ক্ষমতা দখল করেননি, ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছিলো। এর মাধ্যমে এরশাদ প্রমান করেছেন ভন্ডের কোনো ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতা নেই।’
শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ লিখেছেন, ‘জিয়া সাহেব ক্ষমতায় এসেছেন রক্তপাতের মধ্য দিয়ে। তার ক্ষমতায় আসার সোপান তৈরি হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে। তারপর ৩ নভেম্বর এবং ৭ নভেম্বরে রক্তে ভেজা পথ পেরিয়ে জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসেছেন। আর আমাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং দেশের স্বার্থে আমি তা গ্রহণ করেছি।’
এরশাদের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘নাটের গুরু এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন সেনাবাহিনীর এবং জনগণের মধ্যে বিভেদ ও বিভাজনকে উস্কে দিয়ে নিজের ক্ষমতা কন্টকমুক্ত করতে নানাধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত থেকেছেন। জিয়াউর রহমানের শাহাদৎ বরনের পরপরই ক্ষমতা দখল না করে পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকমাস অপেক্ষা করেছেন।’
সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতা গ্রহন করলে জিয়াউর রহমানের হত্যায় এরশাদের জড়িত থাকার বিষয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হবে ভেবে ক্ষমতা দখল করেননি বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এ নেতা।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এরশাদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তার স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসতে যেয়ে ধরা পড়া বাঙালী অফিসারদের বিচারের জন্য বিচারিক ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে ভূমিকার কারনে তিনি সেনাবাহিনীতে কখনো সমাদৃত ছিলেন না।’
এরশাদের বক্তব্যে সরকার ও মহাজোটের মধ্যকার গভীর টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়েছে দাবি করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘তার বক্তব্য জোটে ভূল বোঝাবুঝির ক্ষুদ্ধ বহি:প্রকাশ। হুসেইন মুহাম্ম্দ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর নিকট কন্ঠরোধ অভিমানে ফেটে পড়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, এমএইচ, ১৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)





