৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রাজধানীসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র্যালি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, “জাতিকে তার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে রক্ত সাগর পাড়ি দিয়ে জালিমের কবল থেকে দেশকে স্বাধীন করে জাতির বীর সন্তানেরা। কিন্তু রক্তের দাগ শুকানোর আগেই স্বদেশী আদর্শহীন নেতৃত্বের কবলে পড়ে দেশের সাধারন মানুষ দুর্নীতি ও দুঃশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে শুরু করে।”
“দেশকে পরিণত করেছিল তলাবিহীন ঝুড়িতে। মেধা, নৈতিকতা হারিয়ে ছাত্ররা গা ভাসিয়ে দেয় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং মাদকের সয়লাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল না শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। এমন প্রেক্ষাপটে বিশৃঙ্খল ও দিশেহারা ছাত্রসমাজকে পথ দেখাতে আলোর মশাল নিয়ে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের বিকাশ এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ১৯৭৭ এর ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে যাত্রা করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রশিবির তার লক্ষ্য উদ্দেশ্যে অটল অবিচল থেকে এগিয়ে চলেছে। তবে এ যাত্রার প্রতিটি পরতে পরতে ছাত্রশিবিরকে ত্যাগ- কুরবানীর নজরানা পেশ করতে হয়েছে। প্রতিনিয়ত অপশক্তি কর্তৃক খুন, গুম, নির্যাতন, গ্রেপ্তার, জেলসহ সিমাহীন জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। নেতাকর্মীরা ঈমানী দৃঢ়তা, সাহস ও ধৈর্য দিয়ে সকল প্রতিকূলতা মোবাবেলা করে আসছে।”
“কিন্তু ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমৃদ্ধ জাতি গঠনের লক্ষ্য থেকে একচুল পরিমাণ পিছু হটেনি সংগঠন। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে কুরআনকে বুকে ধারণ ও বাতিলের মোকাবেলা করে আল্লাহর মেহেরবানীতে এগিয়ে চলছে। ফলে ছাত্রশিবির আজ জাতির আশা-আকাঙ্খার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। শত প্রতিকূলতার পরেও এই কাফেলা আজ লাখো ছাত্রদের পদভারে মুখোরিত।”
সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, “ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রায় শুধু ছাত্রসমাজ নয় বরং দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহযোগিতা অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রশিবির জাতির প্রত্যাশা পূরণে ছিল, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আছে এবং থাকবে ইনশা-আল্লাহ।”
অন্যদিকে, সেক্রেটারি জেনারেল রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক যুবায়ের হাসান রাজন, তথ্য ও স্পোর্টস সম্পাদক ফখরুল আলম সিফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
র্যালি পরবর্তি সমাবেশে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছরে তরুণ সমাজকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়তে ছাত্রশিবির প্রতিটি জনপদে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। তরুণদের মাঝে ঘুণেধরা সমাজ পরিবর্তনের একটি স্বপ্ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আজকের সমাজকে পরিবর্তন করে প্রত্যাশিত সোনালি সমাজ তৈরির জন্য প্রয়োজন সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব। যারা সমাজের সকল অন্ধকারকে পরিবর্তন করে আলো প্রজ্জলিত করবে। এ লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে চলেছি। আজকের এই দিনেও আমরা আমাদের লক্ষ্যে অবিচল থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করছি। ছাত্রশিবিরের পথ চলায় দেশবাসীকে আমাদের পাশে থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি।”
এছাড়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রাজিবুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে রাজধানীর শাহজাদপুরে, কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মিরপুর-১ নম্বরে, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে নারায়নগঞ্জের চাষাড়া এলাকায়, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাক-ময়মসহিংহ মহাসড়কে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুকের নেতৃত্বে র্যালি ও সমাবেশ করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া রংপুর মহানগর, রাজশাহী মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ, ফরিদপুর শহর, দিনাজপুর শহর, চাঁদপুর শহর, লক্ষ্মীপুর শহর, মৌলভীবাজার শহর, কক্সবাজার জেলা, হবিগঞ্জ জেলা, বাগেরহাট জেলা, নারায়নগঞ্জ জেলা, মাগুড়া জেলা, দিনাজপুর জেলা উত্তর, যশোর জেলা পূর্ব, ছাতক উপজেলায় র্যালি ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও জেলায় র্যালি ও কর্মসূচি পালিত হয়।
এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:
সারাদেশে শাখা ও থানা পর্যায়ে আলোচনা সভা এবং বর্ণাঢ্য র্যালি; মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ; মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান; অদম্য মেধাবীদের সহযোগিতা প্রদান; অনাথ ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ; কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান; ক্যাম্পাস পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেয়ালিকা প্রকাশ; রচনা, কুইজ, বিতর্ক, বক্তৃতা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা; ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, ব্লাড গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি; শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারী পরিবারের সাথে সাক্ষা; বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমবি





