বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বিশ্বের শীর্ষ ১০ অপহরণকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম হওয়ায় দলের পক্ষ থেকে উদ্ধেগ জানিয়ে সরকারের কাছে গুম, খুন ও অপহরণের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তত্তাবধানে তদন্তের দাবী করছে।

মঙ্গলবার বিকালে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবী করেন।

রিপন আরও বলেন, ‘এর আগে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করে আসছি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিএনপি মনে করে বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’

বিশ্বের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় জাতিসংঘের তত্তাবধানে সুষ্ঠু তদন্তেরও কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের ধোঁয়াশা কেটে যাবে।

দেশের চলমান সংকট তুলে ধরে রিপন বলেন, গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে দেশের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। জবাবদিহিতা ও দায়বদ্বতা না থাকায় এ ধরনের অপকর্ম বেড়ে চলছে।

তিনি বলেন, নতুন নির্বাচনেই হচ্ছে এসব সংকট নিরসনের একমাত্র ব্যবস্থা। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা যাতে করে তাদের পছন্দমত প্রার্থীদের ভোট দিতে পারবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন চিঠি দেয়া হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে কোন চিঠি দেয়া হয়নি। তবে বাংলাদেশ সরকারকে বলতে চাই জাতিসংঘের প্রতিনিধিদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিন। তাদেরকে তদন্ত করতে সহযোগিতা করুন।

বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন যাচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তাই বিষয়টি মিডিয়ায় ঘটা করে আসা উচিত নয়।

তিনি কারাগারে আটক বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবি করেন।

খুলনার শিশু রাকিবকে পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এই ঘটনায় বিএনপি মর্মাহত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন কর্মসূচি দিলেও বিএনপি নীরব কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, আমরা তো রাজপথে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারছি না। তাই গণমাধ্যমের সাহায্যে জনগণকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু সাইদ খান খোকন, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীন, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা প্রমুখ।

এমএইচ/এসএইচ