বিএনপির আন্দোলনের ভয়ে সরকার কথায় কথায় ‘ষড়যন্ত্র’ খোঁজে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলন আতঙ্কে তারা মূলত দু:স্বপ্ন দেখে।
তিনি বলেন, এ সরকার চোরাবালির ওপর দাড়িয়ে আছে। জনগণের উত্তাল তরঙ্গে তাদের ক্ষমতার প্রাসাদ তাসের ঘরের মতো ভেসে যাবে। নব্য ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচারি সরকারকে কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা।’
সব দলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশবাসির প্রতি আহ্বানও জানান বিএনপির এই মুখপাত্র।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা আলমগীর বলেন, জুজুর ভয় আর কতো দেখাবেন। আন্দোলনের কথা বললেই তারা (সরকার) বলে, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলন করছে।
‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি কাউকে রক্ষার করার জন্য নয়, দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলন করছে। এই আন্দোলন সফল হবেই।’
আন্দোলনের স্বপক্ষে জনমত তৈরির জন্য নেতাকর্মীদের মানুষের ঘরে ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে দলের এই মূখপাত্র বলেন, ‘বিদ্রোহ বা প্রতিবাদ না করলে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবেনা। এই বিষয়টি তাদের (জনগণ) বোঝাতে হবে। কে কি পাবেন, তা না ভেবে গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ স্বীকার করুন। স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা হলে সবই পাবেন।’
৭০ বছর বয়সেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘তিনি এই বয়সেও (খালেদা জিয়া) এতোটুকু দ্বিধান্বিত নন। তার দিকে তাকিয়ে উজ্জীবিত হয়েে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আজ এটাই হবে শপথ।’
তিনি বলেন, ‘নিজেদের নামে স্লোগান না তুলে হাসিনা স্বৈরাচরের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে হবে। প্রতিটি বুকে, আকাশে-বাতাসে; রক্তের মধ্যে এই স্লোগান আন্দোলিত করতে হবে। তাহলেই আন্দোলন পূর্নতা পাবে।’
‘সরকার সব গণতান্ত্রিক স্পেসগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে’ মন্তব্য করে বিএনপির এই জেষ্ঠ্য নেতা বলেন, ‘তারা আমাদেরকে বাইরে কোনো সভা-সেমিনার করতে দেয়না। দেশে কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে। এটা এখন শুধু দেশে নয়, বিদেশিরাও বলছেন।’
প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতের দেশের কোথাও না কোথাও খুন-নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
‘ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের মৌলিক চরিত্র’ এমন মন্তব্য করে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তা পরিচর্চা করেনা। ক্ষমতাকে তারা পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে তা টিকিয়ে রাখতে সম্ভাব্য সবই করে। দেশে ভয়াবহ সংকট চলছে, অথচ তাদের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।’
বর্তমান সরকারকে এরশাদের চেয়ে ‘বড় স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদ ২’শর মতো মানুষকে হত্যা করেছিলো। আর এই সরকার গত পাঁচ বছরে ২ হাজরের ওপরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা মানুষকে হত্যা করেছে। শুধু ৩ মাসে বিএনপির ৩১০জন নেতাকর্মীকে খুন ও ৬৫জনকে গুম করার তথ্য-উপাত্ত আছে।’
বর্তমান সরকারকে এই খুন-গুমের জন্য ভবিষ্যতে জবাবদিহিতা করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মির্জা আলমগীর বলেন, ‘অতীতে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে গিয়ে তিনি (শেখ হাসিনা) জাতীয় বেঈমানের খেতাব পেয়েছিলেন। এখন এরশাদ সেই ঋন শোধ করার জন্য ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।’
৬ ডিসেম্বরকে ঐতিহাসিক দিন আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এদিন ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচরের পতন ঘটেছিলো। এই অভ্যূত্থান একদিনে সংগঠিত হয়নি, দীর্ঘ ৯বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমন একসময়ে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে, যখন আরেক স্বৈরাচরের যাতাকলে দেশ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিসয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
এমএইচ





