প্রকৃত পক্ষে বিরোধী দল হতে হলে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের। তিনি বলেন, একই সাথে বিরোধীদলে থাকা ও মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন সংবিধান লংঘনের শামিল।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি এ ধরনের সংসদ সদস্যদের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘মানুষ জাতীয় পার্টিকে কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু আমরা কি সে বিরোধী দল আছি? বাংলাদেশের রাজনীতির আবহে এটি পরিচিত না। আপনি উরুগুয়ের স্ট্রাইকার, আবার ইতালির গোলকিপার—এটা হয় না। আপনি একই সঙ্গে স্বামী আবার একই সঙ্গে স্ত্রী—এভাবে সংসার হয় না।’

দেশে বর্তমানে আইনের শাসনের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জিএম কাদের। তার এই কথা শোনার পরপরই সভাস্থল ত্যাগ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু।

মৎস্যজীবী পার্টির ওই অনুষ্ঠানে জি এম কাদেরের আগে বক্তব্য দিতে ওঠেন দলের মহিলা সাংসদ খুরশীদা হক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পার্টি করলেও তাঁরা এত দিন কিছু পাননি। কর্মীরাও হতাশ ছিল। এবার রওশন এরশাদ বিরোধী দলের নেতা হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য হতে পেরেছেন।

খুরশীদা হকের এমন বক্তব্যের সময় মঞ্চে থাকা এরশাদকে কিছুটা বিব্রত ভাব প্রকাশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে এরশাদের ইশারায় পার্টির মহাসচিব খুরশীদাকে বক্তব্য সংক্ষেপ করার পরামর্শ দেন।

খুরশীদার বক্তব্যের পর বক্তব্য দেওয়ার জন্য দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জি এম কাদের প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। কয়েকবার অনুরোধের পর তিনি বক্তব্য দিতে আসেন। প্রসঙ্গত, জিএম কাদেরকে পার্টিতে মহাসচিব বাবলুর চেয়ে জ্যেষ্ঠ বিবেচনা করা হয়।

এরপর পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মাত্র এক মিনিট বক্তব্য দিয়েই বের হয়ে যান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছিলেন মৎসজীবী পার্টির সভাপতি সোমনাথ দে।

ঢাকা, ২৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ // কেবি