কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এই মেডিকেল বোর্ড যা সুপারিশ করবে, সে অনুযায়ীই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করা হবে বলে তিনি জানান।
আজ (০৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিএনপির ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে শুরু হয়ে এই বৈঠক ৩টা ৫৫ মিনিটে শেষ হয়। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রসচিব ও কারা-মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন) এই নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উল্লেখ করে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলেছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিসসহ আরও কিছু রোগে আগে থেকেই ভুগছিলেন। আজকে বিএনপির এই প্রতিনিধিদল যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজি প্রিজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। তাঁরা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও সরকারি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন। তাঁরা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার ব্যাপারে যে সুপারিশ করবেন আমরা তাই করব।”
এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, “কারাবিধি অনুযায়ী কারাবন্দিদের কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই। তারপরও মেডিকেল বোর্ড যে সুপারিশ করবে আমরা তাই বিবেচনা করে দেখব। আমার জানা মতে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দেশের সর্বোচ্চ ও ভালোমানের চিকিৎসা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সব এখানেই বসেন।”
খালেদা জিয়াকে এর আগে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, তখন কারাবিধির লঙ্ঘন হয়েছিল কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, “ওই সময় মির্জা ফখরুলসহ অন্যরা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সেটা হয়েছিল আদালতের নির্দেশে। আদালত যদি কারো চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেন, সরকার সেটাই পালন করে থাকে। খালেদা জিয়ার ব্যাপারেও এমন কোনো নির্দেশনা আসলে আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখব।”
এর আগে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ (রোববার) তাঁর আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন। আগামীকাল (সোমবার) রিটের ওপর শুনানি হবে।
দলটির পক্ষ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষাতের সময় দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তার বাম হাত ও বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। অসহ্য ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। একই কথা তিনি গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত আদালত কক্ষেও বলেছেন।
খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না দাবি করে মির্জা ফখরুল আরও বলেছিলেন, “আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন তার স্বাস্থ্য নিয়ে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে (খালেদা জিয়া) সাজানো মিথ্যা মামলায় শাস্তি দিয়ে কারাগারে বেআইনিভাবে আটক রেখে হত্যা করার হীনপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।”
এদিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিশেষায়িত হাসপাতালে করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হবে বলে রোববার সকালে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ -এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অর্থদণ্ডও করা হয়।
রায়ের পর থেকে একমাত্র বন্দ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
এমবি





