সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া’র স্মরণে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি হুমায়ুন কবির মিজি।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বেশ ক'জন নেতার বিরুদ্ধে তিনি বিরুপ মন্তব্য করে বলেন, সবাই যার যার ধান্ধায় ব্যস্ত। আখের গোঁছাতেই নেতা-নেত্রীরা মরিয়া।
প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া’র স্মরণ সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু একাডেমি।
এতে আলোচক ছিলেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, আওয়ামী লীগ নেতা ইউসূফ হোসেন হুমায়ূন ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
কিন্তু কথা দিয়ে কেউ কথা রাখেনি। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির খাজা নাজিমুদ্দিন মিলনায়তনের সভামঞ্চ ও সাংবাদিকরা প্রস্তুত থাকলেও আসেননি তাদের কেউ। উপায়ান্তর না পেয়ে ক্ষুব্ধ মনে নিজেই বক্তৃতা করলেন আয়োজক হুমায়ূন কবির মিজি। বিব্রতকর এ পরিস্থিতিতে পড়ে সিনিয়র ওই নেতাদের প্রকাশ্যে (ফোনে) ধমকিয়েছেনও তিনি।
বক্তাদের না আসার কারণ জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি হুমায়ূন কবির মিজি বলেন, ‘তাদের কেউ অসুস্থ, কারো আত্মীয় মারা গেছে আবার কেউ বেড়াতে গেছেন। আমাকে কথা দিয়েও আসে নাই। আর এজন্য দেখেন না? আপনাদের সামনেই বকলাম।’
মিজি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম কালকে আমাকে কথা দিয়েছে আসবে বলে। আজ আর আমার ফোন ধরেননি তিনি। তার পিএস কে দিয়ে ফোন রিসিভ করিয়েছেন। তার নাকি কোন আত্মীয় মারা গেছে, সে সেখানে যাবে। আমি তাকে (তাজ) বললাম অন্তত ঢুঁ মেরে যেতে পারেন তো! তিনি আসলেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবদুল মান্নান খান বলেছেন, তার নাকি অনেক জ্বর আসতে পারবে না। অন্য একদিন ডাকলে আসবেন। আর ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম তো দুপুর ১২টার আগে ফোনই খুলেন না। অ্যাডভোকেট ইউসূফ হোসেন হুমায়ূন কোথায় নাকি বেড়াতে গেছেন। এজন্য আসতে পারবে না বলে জানিয়ে সরি বলেছেন।’
মিজি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘কি করমু ভাই? কেউ কথা দিয়ে কথা রাখে না। আমরা পড়েছি বিপদে। দল করি এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারিনি।’
এর আগেও কয়েকবার মিজির এমন আলোচনা সভায় আসেননি অতিথিরা। অতিথির ২/৩ ঘণ্টা বিলম্বের কারণে কয়েকবার কর্মসূচি বর্জনও করে মিডিয়া কর্মীরা। কিন্তু তাদের বোধদয় হয় না কোনো কালেই।
উপায়ান্তর না দেখে মিজি ফোন করে বেশ কয়েকজন নেতাকে আনেন। পরে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায় বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া জনগণের সাথে রাজনৈতিকভাবে দারুণভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তার মত দ্বিতীয় অর্থনীবীদ আর আসেব না।
সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে খুবই আন্তরিক ও পারিবারিকভাবে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত জীবনে অনেক অর্থমন্ত্রীই দেখেছি, কিন্তু শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মত প্রতিভাবান অর্থনীতিবিদ দেখিনি। কিছু কিছু মানুষের জন্মই হয় মানুষের কল্যাণের জন্য। তার জন্মও তাই।
সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে তাঁর হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য।
পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়কে স্মরণ সভার প্রধান অতিথি করা হয়। নারী নেত্রী ফাতেমা জামান সাথীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের হারুণ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বক্তৃতা শেষে ফেরার সময় দুটি আর্জেস গ্রেনেড হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন শাহ এ এম এস কিবরিয়া।
[b]ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]
রাজনীতি
আলোচকবিহীন কিবরিয়ার স্মরণ সভা!
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া’র স্মরণে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি হুমায়ুন কবির মিজি





