সাঁড়াশি অভিযানের নামে পুলিশি ত্রাস বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
একই সাথে পবিত্র রমজান মাসে সাঁড়াশি অভিযানের নামে সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানায় পুলিশের ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি, রোজাদার সাধারণ মানুষসহ নিরীহ ও ধর্মপরায়ণা ছাত্রী ও শিশুসহ সাতজনকে বিনা অভিযোগে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
এছাড়াও গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
বুধবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এসকল দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বিবৃতিতে মহানগরীর আমীর বলেন, "রাজধানীর কদমতলী থানার মেরাজনগরে গতকাল রাত ১২ টায় স্থানীয় চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় হানা দেয় পুলিশ। সে সময় পুলিশ তাকে না পেয়ে তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস ও দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে মাহফুজুর রহমান মাহিনকে আটক করে নিয়ে যায়।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় গ্রেফতার করা হয় স্থানীয় সিএনজি ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম ও তার মেয়ে কামিল শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া আক্তারকে।
সকাল সাড়ে ৮টায় গ্রেফতার করা হয় প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের দুই মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া ও দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী সাবিহাকে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোন মামলা কিংবা কোন অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বিনা কারণে পবিত্র রমজান মাসে অভিযানের নামে নিরপরাধ ও নিরীহ রোজাদার নারী ও শিশুদের গ্রেফতার সম্পূর্ণ অমানবিক, অসাংবিধানিক ও মৌলিক মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। যা সরকারের ফ্যাসীবাদী, স্বৈরাচারি ও হিংস্র মানসিকতার পরিচয় বহন করে।"
তিনি বলেন, "সরকার তাদের পর্বত প্রমাণ ব্যর্থতা ঢাকতে এবং জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জনগণের উপর দলন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে। দেশে গুপ্তহত্যার মহোৎসব চললেও সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন না। অথচ প্রধানমন্ত্রী বলছেন প্রধান নিবার্হী হিসেবে সব বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য আছে। ফলে জনমনে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, দেশে সংঘঠিত সকল হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গুপ্তহত্যাসহ সকল অপরাধের পেছনে সরকারের হাত রয়েছে।"
তিনি আরো বলেন, "আ’লীগের উপদলীয় কোন্দলে প্রতিনিয়ত বন্দুকযুদ্ধ ও খুনের ঘটনা সংঘটিত হলেও সেসব অস্ত্রধারী খুনী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের পরিবর্তে সরকার পুলিশ দিয়ে জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা নিরীহ সাধারণ রোজাদার মানুষ, নারী ও শিশুদের পর্যন্ত অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। পবিত্র মাহে রমজান ইবাদত-বন্দেগীর মাসেও রোজাদার সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের পুলিশী হয়রানী, গণগ্রেফতার ও নির্মম নির্যাতন কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। রোজার মাসে গণগ্রেফতার, নির্যাতন, হয়রানী ও ক্রসফায়ারের হাত থেকে বাঁচার জন্য ঘর ছাড়া মানুষের পক্ষে রোজা পালন ও ইবাদত বন্দেগী করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে।"
এই জামায়াত নেতা বলেন, পুলিশ রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানার বিভিন্ন বাসাবাড়ী থেকে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোন থানায় মামলা কিংবা অভিযোগও নেই। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন সুষ্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। অভিযোগ ও ওয়ারেন্ট ছাড়া বিনা কারণে গ্রেফতারের বিষয়ে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আদেশ উপেক্ষা ও অবমাননা করেই স্বৈরাচারী ও ফ্যাসীবাদী সরকার এই গণ-গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। সরকারের এই গণগ্রেফতার সংবিধান ও মানবাধিকারের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন; সুশাসন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
জামায়াত নেতা আরো বলেন, নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই সরকার মানবাধিকার ও সংবিধান কোন কিছুকেই তোয়াক্কা না করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাঁড়াশি অভিযানের নামে নিজেরাই জননিরাপত্তায় বিঘ্নসৃষ্টি করছে।
তিনি সাঁড়াশি অভিযানের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
এমআইএস





