নব্বই সালে দায়ের করা এক মামলায় সাংবাদিক নেতা নুরুউদ্দিন আহমেদকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবন সাজার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীসহ সাংবাদিকরা। অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

আজ শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুউদ্দিন আহমেদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, নুরুউদ্দিন আহম্মেদ একজন পেশাজীবী সাংবাদিক, তিনি ফ্রিডম পার্টির কোনো সদস্য ছিলেন না। তাকে এই মামলায় অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে। মামলায় যেসব সাক্ষী ছিলো, তারা কেউ নুরুউদ্দিন আহমেদের নাম বলেননি, কেউ সাক্ষ্য প্রমাণও দেয়নি। তারপরও কেনো তাকে সাজ দেয়া হয়েছে, তা আদালত ব্যাখ্যা করেননি।

তিনি বলেন, আমরা আইনজীবী হিসেবে এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়েছি, ক্ষুব্ধ হয়েছি। আমরা এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাইনি। রায় পেলে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। এরকম একজন পেশাজীবী সাংবাদিককে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া অন্যায়, বেআইনি ও আইনবিরোধী।

পেশাজীবী সাংবাদিক নুরুউদ্দিনের মুক্তির জন্য আন্দোলন গড়ে তোলারও আহবানও জানান অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের দুই দফা সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকবার নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য ছিলেন নুরুউদ্দিন। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, আমরা সাংবাদিক সামাজের সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছি নুরুউদ্দিন আহমেদের মতো জনপ্রিয়, সদালাপী মানুষটিকে যেভাবে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ হয়েছি। আমরা মনে করি নুরুউদ্দিন আহমেদ ন্যায় বিচার পাননি।

নব্বই সালে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন, ঘটনাস্থলেও তিনি যাননি। সেখানে তার নামে মামলা দেয়া হয়েছে। কোনো সাক্ষী তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেননি। সেখানে কী করে নুরুউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে রায় দেয়া হয়, এটা আমাদের বোধ্যগম নয়। আমরা প্রত্যাশা করবো, উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।

বর্তমানে সাংবাদিকদের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ নানা ধরণের নির্যাতনে এবং বেকারত্বে চাকরিচ্যুতে এক অসহনীয় অবস্থার মধ্যে আছে। সেই সময়ে এই রায় আমাদের ব্যথিত করেছে। আশা করি, এই মামলায় উচ্চ আদালত প্রতিকার দেবেন।

সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান সাংবাদিকদের ইউনিয়নের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, পেশাদার সাংবাদিক যে যেখানেই থাকুক না কেনো, তার দায়িত্ব পালনে যে অধিকার রয়েছে, সেই অধিকারকে সম্মুন্নত রাখার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করা উচিত।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বর্তমান যুগ্মসম্পাদক ইলিয়াস খান, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম মহসিন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সাংবাদিক খায়রুল আনোয়ার মুকুল, আব্দুস শহীদ, কাদের গনি চৌধুরী, জহিরুল আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সালেহ আকন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেজবাহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এমবি