কাউন্সিল অধিবেশনের বাইরে রাস্তাঘাটে কমিটি গঠনের কোনো বিধান নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এটা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রবিরোধী। কাউন্সিল অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গিয়ে আরেকটি কমিটি ঘোষণাকারী দলীয় নেতাদের দলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দলের রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণে তাঁরা আগের মতোই সুযোগ পাবেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাসদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহাজোট সরকার ও ১৪ দলে জাসদ আছে ও থাকবে। সরকার ও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে দাবি কেউ কেউ তুলেছিলেন, কাউন্সিল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, আজ পর্যন্ত সরকার, গণমাধ্যম বা জাসদের নেতা-কর্মীসহ কোনো পর্যায় থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অস্বচ্ছতার কোনো অভিযোগ তোলা হয়নি। তাই এই অভিযোগ ডাহা মিথ্যা।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদের পাহারাদারদের দমন এবং উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে জাসদ এগিয়ে যাবে। জঙ্গিবাদবিরোধী শেষ লড়াইয়ে জাসদ অংশ নেবে।

দলের একাংশের বক্তব্যের জবাবে ইনু বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে স্বৈরাচারী ও হঠকারী কোনো কাজ করা হয়নি। বরং তারা দলের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল। জঙ্গিবাদের সঙ্গে আপস করতে চেয়েছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে জাসদের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তারসহ জাসদের নেতা মীর হোসাইন আখতার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাসদের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক পদে নেতা নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের জের ধরে দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা কাউন্সিল অধিবেশন বর্জন করেন। তাঁরা শরীফ নূরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক ও মঈন উদ্দীন খান বাদলকে কার্যকরী সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।

আজ সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে যোগাযোগ করা হলে মঈন উদ্দীন খান বাদল প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে হাসানুল হক ইনু আর্থিক অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমস্যা সৃষ্টি করছিলেন। সভাপতি হিসেবে তিনি নির্মোহ দৃষ্টিতে দল চালাতে পারেননি।

এ ছাড়া জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান জাসদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হলেও তিনি যেভাবে কাজগুলো করছেন, সেটি দল চায় না। এ ছাড়া ব্যক্তিবিশেষের প্রতি তাঁর দুর্বলতা দলের সংকট বাড়িয়েছে।

ওএফ