দেশ এখন ভয়াবহ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র, গণতন্ত্র হুমকিসহ জনগন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রতিবেশী ভারতের অব্যাহত আগ্রাসনের কারণে বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সীমান্তে ফেলানীর লাশ ঝুলিয়ে রাখা মানে হলো বাংলাদেশকে ঝুলিয়ে রাখা। ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় আজ দেশের রাজনৈতিক শক্তি-ব্যাক্তি-গোষ্টি ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে না।
শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে “৭ জানুয়ারী শহীদ ফেলানী দিবস স্মরণে” বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকামহানগর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু'র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোট নেতা ও বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল মহাসচিব এডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয় পার্টি (জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামিম, ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আনছার রহমান শিকদার, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র কেন্দ্রের যুগ্ম সমন্বয়কারী সোলায়মান সোহেল, যুব নেতা জিল্লুর রহমান পলাশ, আবদুল্লাহ আল-কাউছারী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারত তোষননীতির কারনেই সীমান্তহত্যা ও নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই ভারত সীমান্তহত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন সম্পর্কে সরকার যেমন নিশ্চুপ ঠিক তেমনই নিরব রাজনৈতিক দলগুলো।
তিনি বলেছেন, সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশের সরকারগুলোর অবস্থান সকল সময়ই নতজানু। জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যই ভারতীয় আগ্রাসনকে তীব্র করছে। তিনি শহীদ ফেলানী দিবসে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি কুড়িগ্রামে ফুলবাড়ী সীমান্তে বিনা উস্কানীতে বিএসএফ কর্তৃক বাবার সামনে কন্যাকে শিশু ফেলানীকে হত্যা-সহ সারা বছর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফে’র নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ঘটনা ভারতের আগ্রাসী চরিত্র ও সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় বহন করে।
গোলাম মোস্তফা ভুইয়া আরো বলেন, সীমান্তে লাগাতার হত্যা, নদীর পানি আটকিয়ে রাখা, জঙ্গিদমনের নামে বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা তৎপরতা এ সকল কিছুই ভারতীয় নগ্ন আগ্রাসী চরিত্রের বিহঃপ্রকাশ।
সাম্রাজ্যবাদী ভারতের অব্যাহত আগ্রাসনের কারণেই স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও বাংলাদেশ মাথা উচু করে দাড়াতে পারে নাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে মাথা উচু করে দাড়াতে হলে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যার চিন্তা চেতনা হচ্ছে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ।
শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভারত তোষননীতির কারনেই সীমান্তহত্যা ও নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই ভারত সীমান্তহত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেছেন, সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন সম্পর্কে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনে মনে হয় না তারা বাংলাদেশের মন্ত্রী, মনে হয় তারা ভারতীয় জনপ্রতিনিধি। ফেলানী হত্যার মধ্যেদিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহীনি বিএসএফের বরবরতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
এ.এস.এম শামিম বলেছেন, বিএসএফ আর্ন্তজাতিক রীতিনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সীমান্তে নির্বিচারে নিরিহ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা, খুন, গুম, অপহরন নির্যাতন, নিপীড়ন চালাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে সরকার দেশের জনগনের সাথে প্রতারনা করছে। ৭জানুয়ারী ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটা তারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শহীদুননবী ডাবলু বলেছেন, কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানীর লাশ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আজ প্রতিবাদের প্রতীক। এই ছবি শুধু ফেলানীর লাশের ছবি নয়, এই ছবি কাঁটাতারে বিদ্ধ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব। এই ছবি বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতিকদের ভারত তোষননীতির বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার।
এমবি





