আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার রক্ষা নেই। শেখ হাসিনা এ দেশে বিচারের সংস্কৃতি চালু করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যা, যুদ্ধাপরাধের বিচারের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আন্দোলনের নামে খালেদা জিয়া যে অপরাধ করেছেন শেখ হাসিনা তারও বিচার করবেন।’

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে শেখ হাসিনার ৩৫তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘এখনকার বুদ্ধিজীবীরা কুবুদ্ধিতে ওস্তাদ। সুশীল মানে ভাল নাপিত। ভাল নাপিত আর ভাল বুদ্ধিজীবী এক বিষয় নয়। এখনকার সুশীলরা ভাল কামাতে পারেন কিন্তু দেশ-সমাজের জন্য কিছুই করার মুরদ তাদের নেই।’

বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহদেদ প্রসঙ্গে শেখ সেলিম বলেন, ‘সালাহ উদ্দিনকে গুমের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া জাতির সামনে যে নাটক উপস্থাপন করেছেন, এর জন্য তাকে অস্কার পুরস্কার দেওয়া উচিত।’

এ সময় বিএনপির আরেক নেতা ইলিয়াস আলীকেও খালেদা জিয়া গুম করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলই (জাসদ) বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল, যার সুযোগ নিয়েই জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে খুনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ উভয়ই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করেছেন। জিয়ার মতো এরশাদও তার মন্ত্রিসভায় স্বাধীনতাবিরোধীদের ঠাঁই দিয়েছিলেন।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘এরশাদের সময় শেখ হাসিনার ওপর একাধিকবার হত্যাচেষ্টা করা হয়। ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার জনসভায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি ট্রাকে পুলিশ গুলি চালালে ২৪ জন নিহত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া শেখ হাসিনার ওপর ১৯ বার হামলা চালায়। বাঙালীর স্বার্থে শেখ হাসিনাকে আল্লাহতায়ালা বাঁচিয়ে রেখেছেন।’

১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতক বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও রাজাকারপুত্র বিচারপতি লতিফুর রহমান অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। খালেদা জিয়াই এ দেশে সাম্প্রদায়িক এবং হত্যার রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন।’

যুবলীগ ঢাকা উত্তর শাখার সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

কেএইচ