বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও মতিঝিল থানা আমীর কামাল হোসেনসহ ১১ জন নেতা-কর্মীকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার দেশকে একদলীয় বাকশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ ১১ নেতাকর্মীকে রাজধানীর মতিঝিলের একটি বাসা থেকে শুক্রবার সকালে কোন অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার করেছে।
ঘরোয়া বৈঠক থেকে জামায়াত নেতাকর্মীকে কোন কারন ছাড়াই গ্রেফতার বাংলাদেশের সংবিধান ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লংঘন। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অন্যায়-অনভিপ্রেত আচরণ সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট পরিপন্থী। গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতাক-র্মীদেরকে নিয়ে কোন প্রকার নাটক সাধারণ জনগণ মেনে নিবে না। অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ সকল নেতাকর্মীর নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারন করেন।
বিবৃতিতে আরও বলেন, আমরা মনে করি সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে দলন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। সরকার আইনের শাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক হয়রানী, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মামলা, গণগ্রেফতারের মাধ্যমে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চাই।
অথচ ইতিহাস সাক্ষী জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসীবাদী শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর আওয়ামী লীগেরও হবে না। সরকারের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপেও এ ধরনের গায়েবি মামলার অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী জোটের নেতারা। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাদের এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধের অভিযোগ না থাকলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
অথচ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার গুলোকে পাত্তা না দিয়ে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহবান জানান অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারন করেন।
তারা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের ঘটনা সংবিধানের গ্রেফতার ও আটক সংক্রান্ত রক্ষাকবচ (অনুচ্ছেদ ৩৩) এবং চলাচলের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬) এর সাথে সাংঘর্ষিক। ফলে তাদের এরূপ গর্হিত আচরণ গণতন্ত্র ও ভিন্নমত প্রকাশের চর্চা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিরূপ ধারণা তৈরি করবে। সেই সাথে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে। তাই গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নেতৃবৃন্দ উদ্বাত্ত্ব আহ্বান জানান।
এমবি/এসএম





