সংবিধান প্রণেতা এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে স্বৈরশাসনকে বিদায় নিতে হবে বা দেশ ছাড়তে হবে। তা না হলে আমাদের সাথে একমত হতে হবে। এ ব্যাপারে গ্যারান্টিও দিতে পারি।

বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অন্যায় কোনদিন এদেশের জনগণ মেনে নেয়নি। তারা পরিবর্তন আনেই।  

আজ (০৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে ‘কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের মালিক জনগণের করণীয়’শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।  

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, এদেশ আমাদের। যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম তা বাস্তবায়ন সম্ভব। ৭১’এ কেউ কি ভেবেছিল যে আমরা ন’মাসে স্বাধীন হব। এখন বলা হচ্ছে স্বৈরশাসন আমাদের শেষ করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু জনগণকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র হয় না।

তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভর করলে চলবে না।

সম্প্রতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ড. কামাল বলেন, ছাত্ররা দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে দেশ চালাতে হয়। তিনি বলেন, এদেশ কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী পরিবারের নয়। দেশের মালিক জনগণ। সবাই দেশের মালিক। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের মালিককে সারাদেশে প্রচার প্রচাণায় নামতে হবে। দেশ রক্ষায় জনগণকেই ঐকবদ্ধ হতে হবে। উদ্যোগ জনগণকেই নিতে হবে। 

ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে দেশের সবত্র ঈদের ছুটিতে সমমনাদের কাছে যেতে পরামর্শ দেন ড. কামাল।  তিনি বলেন, ২০০৮’এ এজাতি ঘুরে দাড়িয়েছিল। তাই আবারও ঘুরে দাড়াবে এজাতি।

ড. কামাল বলেন, সবাই দেশের মালিক। সবাই নিজেকে দেশের মালিক হিসাবে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন তিনি। যে যতটুকু পারে তাকে সে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান তিনি। জনগণকে বোঝানোর দায়িত্ব নিতে বলেন তিনি। কোন ব্যক্তির ওপর ভর না করতে পরামর্শ দেন তিনি।

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, দেশকে আইনের পথে নিয়ে আসার ব্যাপারে সবাইকে বোঝাতে হবে। আর যারা উল্টো পথে আছে তাদের থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে জনগণকে বোঝাতে তিনি ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্তদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এধরণের কাছে অবশ্যই সাড়া পাওয়া যাবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, হালুয়া রুটির ভাগের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেনি দেশবাসী। তিনি বলেন, জনগণকে কথা বলতে দিতে হবে। জনগণ কথা বললে কোনো ধরণের গুজব সৃষ্টি হবে না। জনগণকে পুলিশ দিয়ে দমানো যাবে না। তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্যও গণতন্ত্র দরকার।

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আসুন সবাই ঐকবদ্ধ হই। কার কোন দল তা এখন বাদ। ঘরে আগুন লেগেছে তাই আগে তা নেভাতে হবে।

আলোচনা সভায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ.ব.ম.মোস্তফা আমীন, গণফোরাম নেতা মোশতাক আহমেদ, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুণ চৌধুরী, প্রকৌশলী ম . ইনামুল হক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন প্রমুখ। 

এমবি