পলাশীর ন্যায় আজও বাংলাদেশের আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিবির নেতারা। আজ (সোমবার) রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিনের উদ্যোগে ঐতিহাসিক পলাশী ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় তারা এমন মন্তব্য করেন।
সভায় শিবির নেতারা বলেন, নব্য মিরজাফর ও ঘষেটি বেগমদের আনাগোনায় বাংলার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। হত্যা, সন্ত্রাস,গুম,খুন ও দূর্নীতিতে জাতির নাভিশ্বাস উঠছে। এ জাতির ভাগ্যে কি আছে আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানে।
বক্তারা বলেন, পলাশী ট্রাজেডির খলনায়ক মিরজাফর, ঘষেটি বেগমদের শেষ পরিণতি ভাল হয়নি। আবার যদি বাংলার স্বাধীনতা নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র হয় তাহলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা কর্মীদেরকে নবাব সিরাজ উদ্দৌলার মত দেশপ্রেমের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
শিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রাশেদুল হাসান রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন সেক্রেটারী মুঈনুদ্দিন মৃধা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা সম্পাদক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, মহানগরী সেক্রেটারি মুঈনুদ্দিন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক বিল্লাহ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বাহার সহ মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন দেশপ্রেমের এক বিরল দৃষ্টান্ত উপ-মহাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে ২৩ মাইল দক্ষিণে ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে সংঘটিত হয়েছে দেশ মাতৃকা রক্ষার যুদ্ধ। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে ব্রিটিশ অধিপত্যবাদের জয় হয়েছিল আর পতন হয়েছিল বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ।
দক্ষিণ ভারতে ফরাসীদের সাথে সংগ্রামে খ্যাতি প্রাপ্ত দু’জন ব্রিটিশ সেনাপতি ক্যাপ্টেন ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের নেতৃত্বে একদল সৈন্যকে জাহাজযোগে মাদ্রাজ থেকে বাংলায় পাঠানো হয়। তাদের উদ্দেশ্য সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসন থেকে উচ্ছেদ করা। এ জন্য ব্রিটিশরা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। ক্লাইভ ভারতীয় ধনকুবের জগৎশেঠ, রাজ কর্মচারী রায় দুর্লভ, রাজ বল্লভ এবং রাজ পরিবারের আখির চাঁদ, উর্মী চাঁদ, ঘষেটি বেগম প্রমুখের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। এদের মাধ্যমে নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের সাহায্য প্রার্থনা করেন।
ব্রিটিশরা জয়ী হলে মীর জাফরকে বাংলার মসনদে বসার আশ্বাস দেয়া হয়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যুদ্ধ শুরু হয়। মীর জাফরের বিশ্বাস ঘাতকতায় ক্লাইভের ৮শ সৈন্যসহ সর্বমোট তিন হাজার সৈন্যের কাছে ২৮ হাজার অশ্বারোহী ও ৫০ হাজার পদাতিক সৈন্য নিয়ে নবাব বাহিনীর পরাজয় ঘটে। সেদিন বিশ্বাস ঘাতকদের জয় হয়। পরে নবাব সৈন্যদের সংগঠিত করে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ধরা পড়ে মীর জাফরের পুত্র মীরনের হাতে নৃশংসভাবে নিহত হন।
এরপর ঘটনা খুব দ্রুত ঘটতে থাকে। মীর জাফর মসনদে বসেন। পলাশী যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড দাবি করা হয়। একের পর এক নবাব বদল হতে থাকে। ১৭৬৪ সালে বক্সারের চুড়ান্ত যুদ্ধে ব্রিটিশরা বাংলার ক্ষমতা দখল করে নেয়। ক্রমান্বয়ে গোটা ভারত বর্ষ ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের কবলে নিপতীত হয়। ভারতবাসীকে দীর্ঘ পৌনে দু’শ বছর গোলামির শৃংখলে আবদ্ধ থাকতে হয়।
ঢাকা, ২৩জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি





