তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নগর হিসেবে ঢাকার যে বিকাশ তা শুধু এ অঞ্চল না, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ৩৫ কোটি বাঙালীর আত্মার কেন্দ্র। সেভাবেই একে গড়ে তুলতে হবে। সে চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চলের সোনার লকেট হবে ঢাকা। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকাকে বহুমাত্রিক যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নায়েম মিলনায়তনে ইতিহাস একাডেমি আয়োজিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক একাদশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা যে জনবহুল শহর তা একদিন টিকবে না। কিন্তু প্রস্ফুটিত ফুলের পাপড়ির মতো ফুটবে। ৭১’ কলি হিসেবে যার জন্ম তা পূর্ণ বিকশিত হবে চারপাশে ছোট ছোট শহর দিয়ে। আজ থেকে ১০ বছর পর যখন আপনারা ঢাকায় আসবেন তখন ঢাকা ফ্লাইওভার, এলিভেটেড ওয়ে আর বহুতল ভবনের নগরে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, রমনার বটমূলে যে বৈশাখ উদযাপন হয় তা একশত বছর আগে ছিল না। বৈশাখ এলে যেভাবে পুরো ঢাকা শহর বদলে যায় তাতে একদিন মহাযজ্ঞ হবে। মানে সামনে ৭ দিন বৈশাখ উদযাপন হবে। যেখানে বাঙালীর ইতিহাস, কারুকার্য, সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে।

ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা মূর্খ ছিল। কারণ তিনি বাঙালীর আত্না ও ইতিহাস। তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছে, বাঙালীর আত্নাকে নয়। তাই তিনি আবার স্বমহিমায় ফিরে এসেছেন।

তিনি বলেন, অপশক্তিরা রবীন্দ্রনাথকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল, নজরুলকে বিকৃত করেছিল ও বঙ্গবন্ধুকে নির্বাসন দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার মাধ্যমে তিনি ফিরে এসেছেন। কিন্তু বিপদ এখনো কাটেনি। তবে আগামীর ঢাকা ক্ষমতায় মোহাম্মদি বেগ, মোশতাকদের দেখবে না। কারণ নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাস পাঠ দুর্বলভাবে এগুচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মীরা ইতিহাস পাঠ করেন না। তাই জবরদখলকারীরা ইতিহাস তৈরি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

এসময় তিনি ইতিহাসবিদদের ঢাকার রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক, ধর্মীয়, অবকাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বিষয়ে গবেষণার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

ইতিহাস একাডেমির সভাপতি প্রফেসর ড. কে. এম. মোহসীনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. সামিনা সুলতানা, নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর মো. হামিদুল হক। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ভারত-বাংলাদেশের গবেষকরা ৫টি বিষয়ের উপর বিভিন্ন প্রবন্ধ পাঠ করবেন।

কেএইচ