আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং আইন বিচার ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধের রায়ের বিষয়ে রিভিউর কোন রকম স্বীকৃতি আমাদের সংবিধানে দেয়া নাই’।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সুরঞ্জিত বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের উপরেও দেয়া হয় নাই। এই আদালতে রায় হওয়ার পর আসামির সঙ্গে দেখা করে অনেকে রিভিউ ও ক্ষমা তত্ত্ব বের করেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- যুদ্ধাপরাধের রায়ের বিষয়ে রিভিউর কোন রকম স্বীকৃতি আমাদের সংবিধানে দেয়া নাই।
তিনি বলেন, যুদ্ধপরাধের বিচার অসাধারণ। এই রায় যত তাড়াতাড়ি কার্যকর করা যায় ততই ভালো। এ রায় দ্রুত নিস্পত্তি হওয়া দরকার। তাই যুদ্ধাপরাধের মামলার দ্বায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদেরকে খুব দ্রুত এই রায় জেল কতৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করার কথা বলেছেন- তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা। রাষ্ট্রপতির হলো প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে উচ্চ ব্যক্তি। তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আগে এই অপরাধী, তার দল জামায়াত এবং তাদের দোসর পাকিস্তান ও বিএনপি তাদের কৃতকর্মের জন্য জনগনের কাছে ক্ষমা চেয়েছে কি?
আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার করা হচ্ছে। আর জামায়াত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে হরতাল দিচ্ছে। তাই সরকার ও পার্লামেন্টের উচিত এদের বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন বুঝতে পেরেছেন জামায়াত তার কাছে একটা বোঝা। তাই যুদ্ধপরাধের বিচারে খালেদা বাকশূন্য। তিনি বুঝতে পেরেছেন বাংলার মানুষ যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।
সুরঞ্জিত বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লণ্ন্ডনে একটা ইতিহাস বিকৃতির স্কুল খুলে বসেছেন। এটা তার একটি নতুন তত্ত্ব। এটার জন্য তার কেউ না কেউ শিক্ষক আছে। পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও কিছু কিছু তত্ত্ব নিয়ে আসছেন। তাদের এ বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জয় বা দু'একজন মন্ত্রীকে নিয়ে কথা বললে আমরা মেনে নিতাম। ও কোথায় গিয়া হাত দিছে। ১৯৭১ সালে ও কতটুকু ছিল’। এই তারেক রহমানকে বিএনপিকেই ঠিক করতে হবে।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, জামায়াত ও তারেক রহমান বিএনপির বোঝা। এদের নিয়ে বিএনপি আর রাজনীতি করতে পারবে না। এদেরকে বাদ দিয়ে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিএনপিকে রাজনীতিতে আসতে হবে।
প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, নিজেরা মুক্তিযোদ্ধ না হয়ে আপনারা যারা চাকুরীর মেয়াদ বাড়াইয়া নিলেন। এটা কি করে করলেন? এই মেয়াদে যদি আপনাদের কোন অর্ডার বৈধ হয়। তাহলে আগে যত অর্ডার দিয়েছেন তা সব অবৈধ। এটা একটি অপরাধ। তাই আপনাদের শুধু পদত্যাগ করলেই হবে না। এটা হলে দেশে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগ থাকবে না। তাই এই অপরাধের জন্য আপনাদের আইন অনুযায়ী সাজাও হওয়া দরকার। তাই সরকার এর যথাযোগ্য ব্যবস্থা নিবেন বলে আমরা আশা করছি।
বঙ্গবন্ধু একাডেমীর সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, বঙ্গবন্ধু একাডেমীর মহাসচিব হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।
এমআর/ এআর





