বর্তমান ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকারে বিরুদ্ধে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন সে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির নব গঠিত কমিটির আহবায়ক মির্জা আব্বাস।
বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনের ভাষানী মিলনায়তনে বিএনপি ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে কমিটির প্রথম বৈঠকে নেতাকর্মীদের এ আহবান জানান তিনি।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল নি:সন্দেহে তা বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু সে তুলনায় ঢাকায় আন্দোলন জমে না উঠায় ঢাকা মহানগর নেতৃত্বকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব উঠে। সেই আলোকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়ির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনকে সুসংহত ও দলকে সুসংগঠিত করতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে আমরা সাধুবাদ জানাই।
ঈদের পর আন্দোলনে ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশনেত্রী আমাদেরকে দলকে সুসংগঠিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করতে বলেছেন। লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নামতে বলেননি। তাই ঈদের পর নেত্রী যে ঘোষণাই দিবেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাতে অংশ নেব।
এসময় তিনি নব গঠিত কমিটি নিয়ে বিভিন্ন মিডয়ায় চাউর হওয়া সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
দলে খোকা বা আব্বাস নামে কোন গ্রুপ নেই দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপিতে একটাই গ্রুপ তা হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রুপ। একটা সুবিধাবাদী শ্রেণী সব সময়ই ফায়দা লোটার চেষ্টা করে।
সংবাদ সম্মেলনে নব গঠিত কমিটির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, আব্বাস ভাই আমার বড় ভাই, আমি ছোট। আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। আমরা ভাই ভাই।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত সমূহ- আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম কমানোর দাবি, সাবেকআহবায়ক খোকার রোগ মুক্তি কামনা, গাজায় ঈসরাঈলী হামলারপ্রতিবাদ জানানো, মালয়েশিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদেরআত্মার মাগফেরাত কামনা এবং হামলাকারীদের বিচার দাবি, ২৪জুলাই জিয়ার মাজার জেয়ারত, ২৬ জুলাই বিমান বন্দরে খালেদাজিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এর আগে দুপুর ১২টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে মির্জা আব্বাস ছাড়াও কমিটির উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আবুল খায়ের ভুঁইয়াসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই শুক্রবার রাতে মির্জা আব্বাসকে আহবায়ক ও হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়বক কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। কমিটি ঘোষণার পর মহানগর নেতাদের এটাই প্রথম বৈঠক।
বৈঠককে কেন্দ্রকরে মহানগর কার্যালয়ের আশেপাশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান নেয়।
ঢাকা, এমএইচ, ২২ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





