জালভোট, কারচুপি, ব্যালট বক্স ছিনতাই এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়াসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও অন্যান্য পদের প্রার্থী ছাড়া প্রায় সব প্রার্থীরাই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ আনেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মেয়র প্রার্থীসহ অধিকাংশ প্রার্থীরাই এরইমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

৫ জানুয়ারির মতো বিতর্কিত নির্বাচন: আফরোজা

সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না অভিযোগ করে ঢাকা দক্ষিণের বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মীর্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, এটাও ৫ জানুয়ারির মত বিতর্কিত নির্বাচন।

মঙ্গলবার সকালে শান্তিনগর লুৎফা একাডেমি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

আফরোজা আব্বাস বলেন, তিনি যে কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন সেখানে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চললেও বিএনপি সমর্থিত পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

পুলিশের সামনে সরকার সমর্থক ক্যাডারদের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন আফরোজা আব্বাস।

সরকার সমর্থিত ছাড়া কোনো এজেন্ট দেখিনি: তাবিথ

ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, আমি যত কেন্দ্রে গিয়েছি কোনো কেন্দ্রে সরকার সমর্থীত প্রার্থীর পোলিং এজন্টে ছাড়া অন্য দলের কাউকে দেখিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি ভোট দিতে গিয়ে দেখি পেপারে সাইন করা নেই। পরবর্তীতে সাইন করার পর ভোট দেই। সকল কেন্দ্রে আমাকে এবং সংবাদকর্মীদের পুলিশ বাধা দিয়েছে। কারা ভোট দিতে ঢুকবে আর কারা ঢুকবে না এটাও নিয়ন্ত্রণ করেছে সরকার সমর্থীতরা।

সরকারি দল দক্ষিণের সব কেন্দ্র দখল করেছে: মিলন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ভোট কেন্দ্র সরকারি দলের নেতাকর্মীরা দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ঢাকা দক্ষিণে জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন।

ভোটগ্রহণ শুরু একঘণ্টা পর সকাল ৯টায় লালবাগের আমলীগোলা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে ভোট প্রদান শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মিলন বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে দুপুরের আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দেন জাতীয় পার্টি।

পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, ধোলাইপাড় উচ্চ বিদ্যালয় ভোট সেন্টারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কমিশনার কাজী হাবিবুর রহমান হাবুর লোকজন আমাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়েছে।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশরাফ উদ্দিন মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয় ও ৪৭ ওয়ার্ডের তামীরুল মিল্লাত মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকেও তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি: সাকি

ঢাকা উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেন, মিরপুরে দু'টি কেন্দ্রে তার টেলিস্কোপ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের একটি কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ভয়ভীতির পরিবেশ আছে। গতকাল বিকেলে রাজধানীর উত্তরা, কালাচাঁদপুর ও বাড্ডা এলাকায় তার দলের প্রচারকারীদের ওপর হামলা হয়েছে। মিরপুরে কাউন্সিলরদের কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংকট আরো ঘনীভূত হবে।

নির্বাচনের যেকোনো ফল মেনে নেবেন কি না- জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে সাকি বলেন, বাংলাদেশে এ সংস্কৃতি চালু করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু যদি নির্বাচনে অনিয়ম হয়, ভোট গণনায় সমস্যা হয়, তাহলে এটা গ্রহণযোগ্য হবে না। স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়ার সুযোগ থাকবে না।

এটা কোনো নির্বাচন নয়: মঞ্জুর

ভোটারদের স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে না দেয়ায় এবং আগে থেকে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখার অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম।

মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের দেওয়ান হাট এলাকায় এক প্রেস ব্রিফিং-এ নির্বাচন বর্জনের এই ঘোষণা দেন তিনি।

একই প্রেস ব্রিফিং-এ কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলম বলেন, এই মুহূর্ত থেকে আমি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করলাম।

তিনি বলেন, যে নির্বাচন হচ্ছে এটা কোনো নির্বাচন নয়। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলাম।

আমিও নির্বাচন বর্জন করলাম: রনি

এবার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি। তিনি ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন।

নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অন্যসব প্রার্থির মত আমিও নির্বাচন বর্জন করলাম।

৫ জানুয়ারী নির্বাচন টিভিতে দেখেছিলাম, আর ২৮ এপ্রিল নির্বাচন নিজ চোখে দেখলাম। এও কি সম্ভব? ইয়েস, রঙে ভরা বঙ্গ দেশে সবই সম্ভব!’

এআর