ছাত্রলীগ-যুবলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, 'পারিবারিক বা ব্যাক্তিগত দ্বন্দ্বে কোনো ঘটনা ঘটলে তার জন্য দল দায়ী থাকবে কেন? যারা অপকর্ম করবে দায় তাদের। দল অপকর্ম করতে বলেও না এবং কেউ করলে তাদের প্রশ্রয়ও দেয় না। তাই ব্যক্তিগত বিশৃঙ্খলার দায় দল নেবে না।'
রোববার রাজধানীর জাতীয় শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা মিলনায়তনে যুবলীগের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
'রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম' গ্রন্থের সংবাদচিত্র প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, নিস্ব, রিক্ত অবস্থায় শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাকে দল দায়ীত্ব দেয়ার পর থেকে অসংখ্য আঘাত এসেছে; তা মাড়িয়ে তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর রক্ত আসলেই কথা বলে। যদি শেখ হাসিনা অন্য কোনো দেশের নেতা হতেন তাহলে বিশ্ব কেঁপে উঠত।
তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় নেতাদের সন্তানেরা মসৃণ পথে রাজনীতিতে আসেন। আর শেখ হাসিনা রাজনীতিতে এসেছেন পিচ্ছিল আর কণ্টাকীর্ণ পরিস্থিতিতে।
পরিবারের সকলকে হারিয়ে, দলের কোন্দল আর ভাগাভাগির মধ্যে তিনি হাল ধরেছেন। জিয়া ও এরশাদের মতো স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে তিনি জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
যুবলীগের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের এই প্রবীন নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও পরামর্শে সোনার ছেলে তৈরি করতেই শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে যুবলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সংগঠনের নতুন নতুন গবেষণাধর্মী কাজগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।
সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে নিয়ে বড় বড় হেডলাইন হয়। অথচ তদন্ত করে দেখা যায় যারা অপরাধ করে তারা কোনো পদে নেই। আমরা স্বীকার করি আমাদের ব্যর্থতা আছে; তা চিহ্নিত করে শুধরানো সম্ভব।
কিন্তু শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগ অপরাধ করে অন্যরা করে না? নাম না জানা বা সেন্টু মন্টু বল্টুদের দায় কেন আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে? অপরাধ করলে তার প্রমাণ দেখাতে হবে।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কোনো দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত নই; মন্ত্রী এমপিদের দালালী করি না, তাদেরও বাসায় যাই না। সরকার দেশ পরিচালনা করে; আর আমরা যারা দল করি তারা দল ছাড়া কিছু বুঝি না। সকলের মতামত নিয়েই দল পরিচালনা করা উচিত যোগ করেন তিনি।
ওমর ফারুক বলেন, উপদেশ দেয়া সহজ কিন্তু উপায় বলে দেয়া কঠিন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সহানুভূতি পাওয়া যায় কিন্তু তা বেশিদিন টেকে না। আমি কোনো অভিযোগ কারী বা কারো করুনার পাত্র নই।
নেতা হতে হলে আন্দোলন, সংগ্রাম, পুলিশী নির্যাতন সহ্য করতে হয়। জনগণের ভাষা বুঝতে হয়। নেতা সাজা যায় কিন্তু নেতা থাকা সহজ নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা এমন একটি দেশে বাস করি যেখানে অপতথ্যের পরিমাণ বেশি। যে জাতি যত তথ্যে সমৃদ্ধ তারা তত বেশি শক্তিশালী।
যুবলীগ নেতাদের পরামর্শ দিয়ে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, তথ্যকে অর্থ বা শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করা যায় না; তথ্য দিয়েই করতে হয়। অনেক সময় তথ্যে ভুল থাকতে পারে। তাই একটি মিডিয়া সেল গঠন করে নিয়মিত সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎ করলে অনেক ভুল শুধরানো সম্ভব।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক কাজী অনিসুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলুসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
ইআর/এমকে





