পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী'র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল উল্লাপাড়া'র কৃতিসন্তান, কারাবন্দী মজলুম জননেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁনের পক্ষে উল্লাপাড়া-সিরাজগঞ্জবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শু'রা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড.এডভোকেট হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে শান্তি ও সহমর্মিতার অনুপম শিক্ষা দেয়। সেই সাথে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্যে অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা যদি বাস্তব জীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি, তাহলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। সেই লক্ষে জাতীয় জীবনে ঈদকে অর্থবহ করতে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচার ও জুলুমবাজ সরকারের পতনের বিকল্প নেই।

গত সোমবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উল্লাপাড়া উপজেলা'র উদ্যোগে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ও বর্তমান ভাইদের নিয়ে আয়োজিত ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি'র বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় শহীদ মাহফুজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শু'রা সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা শাহীনূর আলম।

উল্লাপাড়া উপজেলা আমীর অধ্যাপক শাহজাহান আলী'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবির সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবি এডভোকেট আসাদ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি আলহাজ উদ্দিন, সলঙ্গা থানা আমীর হোসাইন আলী, বেলকুচি উপজেলা সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম সোহেল, উল্লাপাড়া উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা তৈয়ব আলী, সলঙ্গা থানা সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউল হক, সাংবাদিক নেতা কাওছার আজম, জামায়াত নেতা আব্দুল বারী, খাইরুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম প্রমূখ।

প্রধান অতিথি ড.এডভোকেট হেলালউদ্দিন ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে এবং রমাদান মাসের প্রকৃত শিক্ষা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশে কল্যাণকামী সরকার বা নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের মাধ্যমে দেশের জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ফলে জাতীয় জীবনে ঈদকে অর্থবহ করতে হলে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন,জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে সরকারকে যে কোন একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিপরীত সব দলমতকে দমন পীড়ন নীতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বরেণ্য আলেম ওলামাদের কারাগারে বন্দি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠ বন্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

বিশ্ব নন্দিত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সরকারের জুলুমের শিকার হয়ে প্রায় এক যুগ ধরে কারাগারে। বন্দি রয়েছেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ শত শত নেতা কর্মী। তিনি দ্রুত রাজবন্দী জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ আটককৃত সকল নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি