যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে 'অবৈধ প্রধানমন্ত্রী' ও 'এ সময়ের সবচেয়ে বড় রাজাকার'।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ইস্ট লন্ডনের মন্টিপুরী সেন্টারে “বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার অশ্লীল বক্তব্য এবং মিথ্যা মামলার নিন্দা” শীর্ষক এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির যুগ্ম মহাসিচব ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত রাজাকারদের মুখোশ উম্মোচন করেছেন। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এখন প্রমাণিত মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের কোনো ভূমিকা ছিল না। বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাক বাহিনীর রেশন খেয়ে বাবার মতোই আরাম-আয়েশে ছিলেন। ছাড়া পাওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
এ সময় তিনি তারেক রহমানের যুক্তির বিপরীতে গালাগালি বাদ দিয়ে যৌক্তিক বিতর্কে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন আরো বলেন, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার এখন নড়বড়ে হয়ে আছে। একটু ধাক্কা দিলেই এ সরকার বিদায় নেবে। আওয়ামী লীগ হটাতে শিগগিরই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্মসূচি দেবেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ডা. ইকবাল মাহমুদ ফিরোজ আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, একাত্তরে তো আপনাদের অনেকেরই নেতা হওয়ার এবং ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আপনারা তা গ্রহণ না করে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। একাত্তরে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ছিলেন পলাতক ভারতীয় দালাল আর মুজিব পরিবার ছিল পাক বাহিনীর রাজকীয় অতিথি।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব পরিবারের ভুমিকা নিয়ে এ পর্যন্ত যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তার সকল তথ্য তৎকালীন ইতিহাসের পাতা থেকে নেয়া। এখানে তাঁর কোনো মন্তব্য বা বাড়িয়ে কিছু বলা তথ্য নেই। কিন্তু ইতিহাসের সঠিক তথ্য যখন শেখ পরিবারের মুখোশ উম্মোচন করলো, তখন তারা তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে।
আমরা আহ্বান জানাবো, সাহস থাকলে তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। মুক্তিযুদ্ধে আপনারা কে কোথায় ছিলেন, পারলে সে সব তথ্য তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের সামেন যুক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। অন্যথায় গালাগালির রাজনীতি আওয়ামী লীগকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করবে।
শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস বলেন, বক্তব্যের জবাব না দিয়ে যারা গালিগালাজ করেন, তারা রাজনৈতিক বেয়াদব। বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক বেয়াদবের জন্ম হয়েছে, যারা সম্মানী লোকদের সন্মান করতে জানে না। মূলতঃ এরাই রাজনৈতিক বেয়াদব।
কয়সর এম আহমেদ বলেন, রাজাকারের মেয়ে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এ সময়ের সবচেয়ে বড় রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান দাবি গণতন্ত্রকে পদদলিত করে তিনি একাত্তরে পাক বাহিনীর আতিথেয়তা এবং পচাত্তর পরবর্তী সময়ে ভারতের আশ্রয়ে থাকার ঋণ শোধ করছেন। আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে তিনি হত্যা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ রাজাকার হাসিনাকে প্রতিহত করা।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপিত শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে আলোচান সভায় আরো বক্তৃতা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার ডা. ইকবাল মাহমুদ ফিরোজ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ মালিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি তইমুজ আলী, তাজুল ইসলাম, আখতার হোসেন, আহমদ আলী, গোলাম রব্বানী, দপ্তর সম্পাদক ড. মুজিবুর রহমান, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব বিপ্লব পোদ্দার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির আহমেদ শাহীন, জাসাস সভাপতি এমএ সালাম, যুবনেতা আবজাল হোসেন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।
এমআর





