সরকার রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর দমন-পীড়ন এবং হয়রানি চালাচ্ছে।

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় ৭ জন নিহত হওয়ার পর আমরা ঐ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঐ ঘটনার সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহবান জানিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের আহবান অগ্রাহ্য করে সরকার রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরসহ ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

সরকার ঐ ঘটনাকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রকারান্তরে প্রকৃত দুষ্কৃতিকারীদের আঁড়াল করার ষড়যন্ত্র করছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত না করে জোট নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামালা দায়ের অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। আমরা এ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

আজ ৪ ফেব্রুয়ারী ’১৫  এক বিবৃতির মাধ্যমে জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সরকার ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের অপহরণ, হত্যা ও গুম করে গোটা দেশকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছে। প্রতিদিনই গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। গ্রেফতার করার পর থানায় নিয়ে গায়ে গুলি করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে গুম করে দেয়া হচ্ছে। দেশে চলছে ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই।

৩ ফেব্রুয়ারী যৌথবাহিনী কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি বোরহানউদ্দিন, ইউসুফ, আবু সুফিয়ান ও আবদুল আলিমকে গুলি করে আহত করেছে। চৌদ্দগ্রামের উজিরপুর ও কালিকাপুরে জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের প্রায় ১০টি বাড়িতে যৌথ বাহিনী নির্বিচারে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।

শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করছে রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের দলীয় ক্যাডাররা।

৩ ফেব্রুয়ারী ঢাকা মহানগরীর কদমতলী থানার পুলিশ জিয়া সরণী এলাকা থেকে ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মী আবদুল হামিদকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডে পুলিশ জামায়াতের রুকন মোহাম্মদ ফজলুল হক ও নাজমুল হোসেনকে গুলি করে আহত করেছে।

এছাড়াও মোহাম্মদগপুরের তাজমহল রোড থেকে ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান ও আবুল কাসেমকে পুলিশ আটক করার পর গুলী করে আহত করেছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের সন্ত্রাসী তা-ব সৃষ্টির আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সরকার আজও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের আড়াই শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন নাটোর জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মো: দেলোয়ার হোসাইন ও কুমিল্লা দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী খন্দকার দেলোয়ার হোসাইন, রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী খন্দকার মনির আজম মুন্নু।

এভাবে নেতা-কর্মীদের হত্যা, অপহরণ ও গুম করে ২০ দলীয় জোটের গণআন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। সরকার যত তাড়াতাড়ি এ সত্য উপলব্ধি করে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ততই মঙ্গল।

২০ দলীয় জোট ঘোষিত সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে চলমান গণআন্দোলনকে সফল করে তোলার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”

এসএইচ