ফেনী সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি দুর্বৃত্তদের হাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ (১১ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার দলটিরআমির মকবুল আহমাদ প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এই শোক প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমির বলেন, “ফেনী জেলার সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি দুর্বৃত্তদের হাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবার-পরিজনদের মত আমিও স্বজনকে হারানোর বেদনা অনুভব করছি। তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকারীরা মানুষ নামের কলংক।”
তিনি আরও বলেন, “কোন সভ্য মানবসমাজে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা কখনো কল্পনাও করা যায় না। নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ।”
“এই ধরনের ঘটনা যাতে আর কেউ ঘটাবার সাহস না পায় সে জন্যই নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।” যোগ করেন মকবুল আহমাদ।
তিনি বলেন, “আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাকে জান্নাতবাসী করার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করছি ও তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করছি, আল্লাহ তাদের এই শোক সহ্য করার তাওফীক দান করুন।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এম. আলম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় এইসব তথ্য জানানো হয়।
টানা পাঁচদিন প্রায় ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে মৃত্যুর কাছে হার মানেন নুসরাত জাহান রাফি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন নুসরাতকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নুসরাত জাহান রাফি (১৮) এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এ কে এম মুসা মানিকের মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
গত ০৬ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত জাহান রাফি (১৮) আলিম (এইচএসসি সমমান) আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে যান। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ জন বোরকা পরিহিত দৃর্বৃত্ত ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুর ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।
তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে।
এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন। কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করেন। এই অবস্থায় আলিম পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে ভাই নোমান নুসরাতকে পরীক্ষার হলে বসিয়ে দিয়ে আসতেন। ঘটনার দিনও তিনি তাই করেন।
এমবি





