বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, এ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। কারণ, দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ একদিকে, আর আওয়ামী লীগ অন্যদিকে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সমাধান হবে না।
রোববার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নির্বাসিত। জনগনের কোন অধিকার নাই, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নাই। প্রতিনিয়ত গুম-খুন হচ্ছে। তাই এই অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। এরজন্য প্রয়োজন আন্দোলন। আমরা শান্তশিষ্টভাবে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চেয়েছিলাম। কিন্তু আলোচনায় কোন লাভ হবে না। কিন্তু এতে কোন সমাধান না হলে আন্দোলন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। আন্দোলন করেই এদের বিদায় করা হবে।
তিনি বলেন, রমজানেও মানুষের শান্তি নাই। দ্রব্য মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অথচ এদিকে সরকারের নজর নাই। দেশে লুটেরাদের শাষন চলছে। ডেসটিনি, হলমার্ক, বিসমিল্লাসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে লুটপাট চালিয়ে দেওলিয়া করে দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, আজকে পার্লামেন্টে জনগনের প্রতিনিধি নেই, সেখানে জনগনের স্বার্থ নিয়ে কথা বলা হয়না। সেখানে এখন গান বাজনা হয়। সংসদ আজ সংদের আড্ডাখানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগন চায় তাদের প্রতিনিধিত্ব মূলক সরকর। তাই আসুন নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হই।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। ৯৫ ভাগ লোক আমাদের সাথে আছে। নতুন প্রজন্ম ভোট দিতে পারেনি। তারা ভোট দিতে চায়। তাই তাদের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে হবে। আমাদের দেশের তরুন প্রজন্ম অনেক মেধাবী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, ড. তুহিন মালিক, অধ্যাপক পিয়াস করিম, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা.জাফরুল্লাহসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকবৃন্দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, চীন, কুরিয়া, মরক্কো, লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ড. আব্দুল মঈন খান, আ স ম হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী। জামায়াতে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী’র ছেলে শামিম সাঈদী, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম, জাগপা চেয়ারম্যান শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি’র চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, জেবেল রহমান গানি, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা সাখাওয়াত, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. টিএম আই ফজলে রাব্বি, এম এম আলম, নবাব আলী আব্বাস, আহসান হাবিব লিংকন, খালিকুজ্জামান চৌধুরী, আতিকুর রহামন আতিক, সফিউদ্দিন ভূইয়া, মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ।
ঢাকা, এমএইচ, ১৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





