সুন্দরবনের ভেতরে শ্যালা নদী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার বিকেলে এক মানববন্ধনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ওরিয়ন বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলসহ বেশ কিছু দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এ সরকার জনগণের সরকার নয়। এরা শোষক ও আধিপত্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। সুন্দরবনে এতো বড় ঘটনা ঘটলো-অথচ সরকার কোনো দুঃখ বা নিন্দা প্রকাশ পর্যন্ত করল না।’
তিনি বলেন, ‘তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনা আমাদের জন্য একটি বড় সংকেত। সাড়ে ৩ লাখ টন তেল পানিতে পড়ার কারণেই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রকৃতি। কিন্তু রামপাল ও ওরিয়ন গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তো প্রতিদিন ১১ লাখ টন থেকে ২২ লাখ টন কয়লা এ পথ দিয়ে যাবে। তখন কী হবে? সুতরাং সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে এ দু’টি বিদ্যুৎ প্রকল্প সরকারকে বাতিল করতে হবে।’ জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ‘সুন্দরবনের ক্ষতিরোধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। রামপাল ও ওরিয়নের বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া এই এলাকায় উন্নয়নের নামে যেসব প্রকল্প নেওযা হচ্ছে বা হয়েছে তা থেকেও সরকারকে সরে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারকে আমরা এক মাস সময় দিয়েছি। সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় তারা কি পদক্ষেপ তা দেখার জন্য আমরা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি এর মধ্যে আশানরূপ পদক্ষেপ সরকার না নেয় তাহলে ওইদিন (৯ জানুয়ারি) সুন্দরবন অভিমুখে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
মানববন্ধনে জাতীয় কমিটির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাইফুল হক, মোশরেফা মিশু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জেআই





