বিএনপি নেত্রী নির্বাচনের ট্রেন মিস করে এখন বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন,বিএনপি নয়,আওয়ামী লীগেই অবৈধ সরকারের বৈধতা পেতে বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। কিন্তু সারা বিশ্ব বলছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিউটশনে ঢাকা বারের আইনজীবী সমিতির নব নির্বাচিতদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তিনি বলেন,এই সরকার যে ট্রেনে ছড়ে বসেছে,সেই ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছার আগেই পরে গেছে, এটি চলতে পারেনা। তাদের এই ট্রেন উঠানের জন্য এখন ক্রেনের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
তিনি বিদ্যুতের দাম ‍বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বলেন,কার স্বার্থে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সরকার দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ,গ্যাস দিতে পারছে না। উল্টো গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। তাদের যদি জনগণের প্রতি সামান্য মমতা থাকে তাহলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করত না।  
তিনি সরকারকে আর দাম না বাড়াতে আহ্বান জানিয়ে বলেন,বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সব পণ্যের দাম বাড়বে। এতে দেশের জনগণের কষ্ট হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হবে। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব থেকে সরে আসুন।
বিএনপি দুর্বল হয়ে গেছে সমালোচকদের এমন জবাব দিতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন,বিএনপি দুর্বল হয়ে যায়নি। বিএনপি অনেক শক্তিশালী। যার প্রমাণ আমরা উপজেলা নির্বাচনে পেয়েছি। ঢাকা বারের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও এর প্রমাণ। তবে দলকে আরও সুসংগঠিত করা হচ্ছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। দলে নতুন নেতৃত্ব আসবে। তাদের মাধ্যমে দল এগিয়ে যাবে।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,আমরা নির্বাচনে না গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৫তারিখে জনগণ দেখিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে কোন সুষ্ঠ নির্বাচন হতে পারেনা। তাই আপনাদের উচিত ৫ তারিখ নির্বাচনে যে কুকুরটি ছিল সেটাকে খুঁজে বের করে পুরুস্কৃত করা। কুকুর তো আপনাদের ভোট দিতে গেছে। কারণ দেশের জনগণ আপনাদের ভোট দেয়নি।
তিনি বলেন,এখনও সময় আছে দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিন। দেশের জনগণ নির্বাচনের অপেক্ষায়। যত দেরি করবেন তত আপনাদের জন্য ক্ষতি। এর জন্য মাশুল আপনাদেরকেই দিতে হবে।
উপজেলা নির্বাচনে সরকার ভোট কারচুপি করছে এমন দাবি করে বেগম জিয়া বলেন,আওয়ামী লীগ কারচুপি ও ভোটকেন্দ্র দখল না করলে তারা ১'শর বেশি আসন পেত না। আরও ৩দফা উপজেলা নির্বাচন আছে। সেখানে জোর করে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বেগম জিয়া আরো বলেন,পুলিশ-র্যা বকে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় কর্মী বাহিনীতে পরিণত করেছে। বাংলাদেশে এখন কোন প্রশাসন নেই,আছে দলীয়করণ। এখন মেধার কোন মূল্য নেই আওয়ামী করণের মূল্য আছে। বিচারবিভাগ সরকারের কাছে বন্দী হয়ে আছে। তাই সরকার যে ভাবে আদেশ দিচ্ছে বিচারপতিরা তা পালন করছে।
তিনি বলেন,আওয়ামী লীগের দুর্নীতিতে সারা দেশ ছেয়ে গেছে। এরা হলমার্ক,ডেসটিনি, ব্যাংক,শেয়ার বাজার দূর্নীতি করে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ দূর্নীতি গ্রস্থ অবৈধ সরকার।
সবশেষে তিনি আসন্ন ১২-১৩ মার্চ  সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলকে বিজয়ী করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলকে পরিচয় করিয়ে দেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন,ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ,ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন,ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর,অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন,আহমদ আযম খান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন,অ্যাডভোকেট লুৎফে আলম,অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার,অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম।
ঢাকা বারের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে  অ্যাডভোকেট মো. মহসিন মিয়া. সাধারণ সম্পাদক পদে  অ্যাডভোকেট মোসলেউদ্দীন জসিমসহ বিএনপি-জামায়াতপন্থী ১৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
[b]ঢাকা,এমএইচ,৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]