ভারতকে মুক্ত আকাশ সুবিধা দেয়া সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন ন্যাপ নেতৃবৃন্ধ।
আজ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৩৬তম জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ঢাকা মহানগর আয়োজিত স্মরণ সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নেতৃবৃন্ধ এ কথা বলেন।
নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু’র সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয় পার্টি যুগ্ম মহাসচিব এ.এস.এম শামিম, ন্যাপ সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর সদস্য সচিব যুগ্ম আহ্বায়ক বাসন্তী বরুয়া বাবলী, মোঃ মিজানুর রহমান, জাতীয় ছাত্র কেন্দ্রের যুগ্ম সমন্বয়কারী সোলায়মান সোহেল, মেহেদী হাসান প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি সই হচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহার করতে ওপেন স্কাই সুবিধা চাচ্ছে ভারত। ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দর, সড়ক ও মুক্ত আকাশ সুবিধা নিলে আক্ষরিক অর্থেই আমাদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বলে কিছুই থাকবে না।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, আমরা রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়া আর ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যাস্ত থাকলেও দেশের স্বার্থ বিরোধী এই সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি না। আর তাই সমগ্র জাতি উপলব্ধি করছে দেশের স্বার্থে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মত নেতার আজ কতটা প্রয়োজন। সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের দোষরদের বিরুদ্ধে ‘খামোশ’ উচ্চারন করার মত নেতার কতটা জরুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বর্তমান বিনাভোটের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে একের পর এক চুক্তি করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে তারা ভারতের হাতে উজাড় করে দিচ্ছে। অথচ বিনিময়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কিছুই পায়নি। ভারত একতরফাভাবে অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এক লিটার পানিও তারা ছাড় দিচ্ছে না। ইতোমধ্যে বলতে গেলে বিনামূল্যেই ট্রানজিট সুবিধা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও বিশ্বজনমতকে উপেক্ষা ও অগ্রাহ্য করে ভারত জবরদস্তিমূলকভাবে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যূৎ প্রকল্প চালু করতে গিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রতিবেশ, আবহাওয়া ধ্বংস করে বাংলাদেশী মানুষদের বিলুপ্তযুগের প্রাণীদের দলে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা করছে। অথচ বিনাভোটের নতজানু সরকার প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা. দুরদর্শিতা প্রদর্শনের বদলে বিধ্বংসি ভাঙ্গনের ছেলেখেলায় মেতে উঠেছে।
দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র রক্ষায় মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, মওলানা ভাসানীই বুঝিয়েছেন শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া আর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাজনীতি নয়। দেশের পক্ষে-মানুষের পক্ষে সাম্রাজ্যবাদী আর আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মেরুদন্ড সোজা করে লড়াই করাই হচ্ছে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শহীদুননবী ডাবলু স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ভারতকে মুক্ত আকাশ সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে সেটি হবে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং আমাদের অস্তিত্ব বিপন্নকারী পদক্ষেপ। এর বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক শক্তিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জারিফ





